সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, জাজানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নাজরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই আঘাত হানা হয়। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে রিয়াদ।
সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এক বিবৃতিতে জানান, জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে সফলভাবে ধ্বংস করেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সেনাবাহিনী কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা সম্পূর্ণ পুনর্দখলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই পাল্টাপাল্টি সংঘাত তীব্র রূপ নেয়। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মানদাব প্রণালীর পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি ও উপকূলীয় অবস্থানগুলো থেকে হুতিদের বিতাড়িত করতে সরকারি বাহিনী ব্যাপক আক্রমণ পরিচালনা করছে।
তাইজ প্রদেশে চলমান লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এদিকে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার সামরিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, তাইজ অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের সময় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ৩৫তম সাঁজোয়া ব্রিগেডের শীর্ষ কমান্ডার আবদুর রহমান আল-শামসানি নিহত হয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকরা এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই লড়াইয়ে তাইজ শহরের ভেতরে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়েছেন এবং নতুন করে হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে এই হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ২২টি আরব দেশের জোট আরব লীগ। কায়রোভিত্তিক এই সংস্থা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক আকাশপথ ও সাধারণ যাত্রীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে জোটটি ইয়েমেনের নির্বাচিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি নিজেদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
লোহিত সাগরের নৌপথ ও আকাশসীমায় নতুন করে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
