রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন স্তরের ভোটাভুটি

বসনিয়ায় সাধারণ নির্বাচন শুরু: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

বসনিয়ায় সাধারণ নির্বাচন শুরু: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রোববার সকাল থেকে দেশটির ৩৪ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রগুলোতে সমবেত হন। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত এই বলকান রাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসারে রাষ্ট্রীয় পর্যায়, প্রশাসনিক সত্ত্বা এবং স্থানীয় ক্যান্টন — এই তিন স্তরের নেতৃত্ব বেছে নিতে ব্যালট প্রদান করছেন নাগরিকরা।

ক্ষমতার ভারসাম্য এবার জটিল সমীকরণে।

যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো অনুসারে দেশটি দুটি মূল অংশে বিভক্ত — ফেডারেশন অব বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা এবং সার্ব সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকা সিরপস্কা, যার সঙ্গে বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্রচকো ডিস্ট্রিক্ট সংযুক্ত রয়েছে। এই বহুমাত্রিক শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্সি এবং পার্লামেন্টের পাশাপাশি প্রতিটি অঞ্চলের আইনসভার প্রতিনিধিদেরও একই দিনে নির্বাচিত করা হয়। রাজধানী সারায়েভোসহ প্রধান শহরগুলোতে পিপল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ব্যাপক প্রচারণার পর কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। জাল ভোট ও অনিয়ম প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ডিভাইসের ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ভোটাররা ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার পর তা সরাসরি কাঠের বাক্সে না ফেলে অপটিক্যাল স্ক্যানার যন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্ক্যান করে জমা দিচ্ছেন।

তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়নি। ভোটাররা প্রচলিত কাগজের ব্যালটেই ভোট দিচ্ছেন, যা সনাতনী প্রথার নিরাপত্তা বজায় রাখে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্ক্যানিং ও ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো ভোট গণনাকে দ্রুততর করা, গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্ভুল ভোটার তালিকা বাস্তবায়ন করা।

নির্বাচনী এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ শেষে সার্বিক ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

banner
Link copied!