বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশু সুরক্ষায় গুরুতর ঘাটতি রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশটির পরিচালিত এক সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিশুদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরস্পরবিরোধী ও দুর্বল পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্থানীয় গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় আট থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি দশজন শিশুর মধ্যে নয়জনই ইন্টারনেটে বিভিন্ন গেম খেলে থাকে।
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে গেম খেলার সময় কোনো ধরনের অপরাধী চক্র, যৌন নিপীড়নকারী বা উগ্রপন্থী প্রচারণার শিকার না হওয়ার অধিকার শিশুদের রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল থাকার সুযোগে বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তিরা শিশুদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তাদের ফাঁদে ফেলতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের উগ্রবাদে দীক্ষিত করার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ভালভ প্রচলিত শিল্পমান অনুযায়ী ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত ও মুছে ফেলার প্রযুক্তি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করেনি। তাদের বার্তা আদান-প্রদান ব্যবস্থায় শিশুদের জন্য হুমকি তৈরি করে এমন উপাদান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।
বয়স নির্ধারণ ব্যবস্থার দুর্বলতা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।
মাইনক্রাফট ও ফোর্টনাইট সাধারণত ব্যবহারকারীর নিজস্ব দাবির ভিত্তিতেই বয়স নির্ধারণ করে, ফলে কম বয়সীরা সহজেই প্রাপ্তবয়স্ক পরিচয় দিয়ে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ ফিচারে যুক্ত হতে পারছে। তবে স্টিম সম্প্রতি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে বয়স নিশ্চিত করার নিয়ম চালু করেছে এবং রোবলক্সও তাদের যাচাই প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন এনেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানেও সমন্বয়হীনতার চিত্র উঠে এসেছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে উম্মাহ কণ্ঠ ডট কম ডেস্ক নিশ্চিত করেছে যে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির সরকার এর আগেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছিল। এবার বিনোদনমূলক গেমগুলোর ভেতরে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ তদারকি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
