অনুমতি ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের স্পর্শ ও ভাইব্রেশন প্রযুক্তি ব্যবহারের দায়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকে পাঁচ দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর ফেডারেল জেলা আদালতে চলা বিচার প্রক্রিয়ায় এই রায় ঘোষণা করা হয়। অডিও সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেকশন টেকনোলজি ২০২১ সালে অভিযোগ করে যে, তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পেটেন্ট লঙ্ঘন করে পণ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।
আইনি লড়াইয়ের পর জুরি বোর্ডের সদস্যরা টেকশনের পক্ষে এই রায় দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টাচ বা বোতাম চাপার পর ডিভাইসে যে সূক্ষ্ম কম্পন অনুভূত হয়, তাকে হ্যাপটিকস প্রযুক্তি বলা হয়। এই প্রযুক্তি আধুনিক স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে তোলে। টেকশনের তৈরি বিশেষ এই পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বার্তা পাওয়া বা স্ক্রিন স্পর্শের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত অনুভূতি পান। বাদীর অভিযোগ ছিল, কোনো লাইসেন্স বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই তাদের উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজেদের ডিভাইসের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে বিপুল আর্থিক সুবিধা নিয়েছে অ্যাপল।
তবে আদালত জানিয়েছে, অ্যাপলের এই প্রযুক্তি লঙ্ঘনটি ইচ্ছাকৃত ছিল না।
অ্যাপল শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের নিজস্ব ট্যাপটিক ইঞ্জিন প্রযুক্তিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কাঠামোর ওপর তৈরি এবং টেকশনের পেটেন্টের সাথে এর মৌলিক কোনো সাদৃশ্য নেই। এই রায়কে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ আদালতে আপিল করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। অ্যাপল প্রথম ২০১৪ সালে নিজেদের তৈরি ডিভাইসে এই ভাইব্রেশন ইঞ্জিন যুক্ত করে, যা পরবর্তী সময়ে নিয়মিতভাবে উন্নত করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে সান ডিয়েগোর আদালত প্রাথমিক পর্যালোচনায় অ্যাপলের পক্ষে রায় দিয়ে অভিযোগ খারিজ করেছিল। তবে ফেডারেল আপিল আদালতের নির্দেশনায় মামলাটি পুনরায় বিচারে আসে এবং দীর্ঘ শুনানির পর সাত সদস্যের জুরি এই রায় দেয়। পেটেন্ট আইনের বিভিন্ন দিক ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
এর আগেও অ্যাপল একাধিক পেটেন্ট সংক্রান্ত আইনি বিরোধের মুখে পড়েছে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপক যন্ত্রাংশ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে গত বছর আরেক চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন আদালত।
