এক সপ্তাহের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের পেশ করা সাত দিনের শান্তি রূপরেখা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে হেলিকপ্টারে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে রওয়ানা হওয়ার ঠিক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই অস্বীকৃতির কথা জানান। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে তিনি তেহরানের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবটি নাকচ করে দিচ্ছেন।
হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিল।
এর আগে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সাত দিনের একটি কূটনৈতিক রূপরেখা পাঠানো হয়েছে। সেই প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং স্থগিত থাকা পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে। তবে শনিবার ট্রাম্পের এই সরাসরি প্রত্যাখ্যানের পর কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে যে শান্তি প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি ভেস্তে গেল।
মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্প তেহরানের আন্তরিকতা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চরম সন্দিহান ছিলেন। এমনকি আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের ওপর পুনরায় ব্যাপক বিমান হামলার নতুন অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে আলোচনা করেছেন। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক আলোচনাগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে; যেখানে তিনি একদিকে আলোচনা ইতিবাচক হওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চরম হুমকিও দিয়ে চলেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের এই অস্থির নীতির কারণে আন্তর্জাতিক নৌপথটি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ল। আমেরিকার সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এই সংঘাতকে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করলেও হোয়াইট হাউস আপাতত কোনো স্থায়ী সমঝোতায় না গিয়ে পরিস্থিতিকে ঝুলন্ত রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
