তিউনিসিয়ায় কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও বকেয়া ভাতা পরিশোধের দাবিতে জ্বালানি পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে চরম জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ঘোষিত এই কর্মবিরতির ফলে দেশটির বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। সড়ক পরিবহনের ওপর জ্বালানি সরবরাহের প্রায় পুরো নির্ভরতা থাকায় এই অচলাবস্থা দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
সারা দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় থমকে গেছে।
জেনারেল ফেডারেশন অব অয়েল অ্যান্ড কেমিক্যালসের আহ্বানে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে ২০১৯ সাল থেকে আটকে থাকা ভাতা ও সামাজিক সুরক্ষার পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি বিতরণকারী সংস্থা অজিলের মহাপরিচালক খালেদ বেতিন জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি এড়াতে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন তিনি। বিদ্যুৎ ও পানির ক্রমাগত বিভ্রাট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্য এবং ওষুধের চরম ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। পাঁচ বছর আগে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদ দেশটির সংসদ স্থগিত করে একক ডিক্রির মাধ্যমে শাসনভার গ্রহণের পর থেকেই নাগরিক অসন্তোষ ধীরে ধীরে বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা একে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর পতনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন।
তিউনিসিয়ার অর্থনীতিবিদ খুলুদ তৌমি জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি অর্থায়ন সংগ্রহে সরকারের ব্যর্থতার ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর চাপ বাড়ছে, যা বিনিয়োগ ও সার্বিক উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রস্তাবিত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিরোধিতাকে অন্যতম বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ আল-ঘিলৌফি স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ফোরামের তথ্য উল্লেখ করে জানান, চলতি ২০২৬ সালে দেশটিতে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক বিক্ষোভ হয়েছে। তিনি বর্তমান প্রশাসনের একচ্ছত্র ক্ষমতা গ্রহণকেই এই বহুমুখী সংকটের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন।
