মরক্কোর সংসদীয় নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস ঘটেছে। ঘোষিত প্রাথমিক ফলাফলে মধ্যপন্থী অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) ৯৭টি আসন পেয়ে আইনসভার বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অন্যদিকে বিদায়ী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টস (আরএনআই) বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে আসন সংখ্যা ৬৬টিতে নামিয়ে এনেছে। একই নির্বাচনে মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) নিজেদের আসন সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বাড়িয়ে রাজনীতিতে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে।
ভোটার উপস্থিতিতে নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এবার ভোট পড়েছে মাত্র ৩৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, যা বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদের শাসনামলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ৩৯৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৯৮টি আসনের প্রয়োজন হলেও কোনো দলই এককভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে মরক্কোর সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাদশাহ নির্বাচনে প্রথম স্থান অধিকারী দল থেকেই সরকারপ্রধান নিয়োগ করে থাকেন। ফলে পিএএম এবার সরকার গঠনের আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ পাচ্ছে। বিদায়ী জোটের তিন শরিক পিএএম, আরএনআই এবং ৬৫ আসন পাওয়া ইস্তিকলাল পার্টি চাইলে আবারও মোট ২২৮ আসনের সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারে।
প্রচারণার সময় শাসক জোটের দলগুলোর অভ্যন্তরীণ তীব্র বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে।
নির্বাচনী প্রচারণায় পিএএম সমন্বয়ক ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরি ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ মেহদি বেনসাইদ প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে আরএনআই প্রথম হলে তারা তাদের অধীনে সরকারে অংশ নেবেন না। এদিকে ২০২১ সালের নির্বাচনে মাত্র ১৩ আসনে নেমে আসা পিজেডি এবার ৫৪টি আসন পেয়ে আইনসভার চতুর্থ বৃহত্তম দল হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মরক্কোর রাজকীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ফৌজি লেকজা পিএএম দলের ব্যুরোতে যোগ দেওয়ার পর দলটির নেতৃত্ব আরও সংহত হয়। তবে পিজেডি নেতা ও সাবেক সরকারপ্রধান আবদেলইলাহ বেনকিরান অভিযোগ করেছেন যে ইসলামপন্থীদের রাজনৈতিক পুনরুত্থান রুখতেই এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আনা হয়েছে।
সাউদার্ন প্রভিন্স হিসেবে পরিচিত দক্ষিণাঞ্চলীয় লাইউন-সাকিয়া এল হামরায় ৭৭ শতাংশ এবং দাখলা-ওয়েদ এদ-দাহাবে ৬১ শতাংশ ভোট পড়লেও সারা দেশের তরুণদের মাঝে অর্থনৈতিক অসন্তোষের কারণে ভোট বর্জনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। নতুন সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যকার আলোচনা এখন রাজনৈতিক দরকষাকষির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
