যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে এক আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার এই বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনা শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন, আজকের এই আলোচনা আগামী দশকের পর দশক ধরে শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
দীর্ঘদিন পর হোয়াইট হাউসে পা রাখলেন চীনা রাষ্ট্রপ্রধান।
বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বাণিজ্য শুল্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের তীব্র প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং তাইওয়ান ও ইরান সংকট। বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সংলাপে শি জিনপিং আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্পকে তাইওয়ানের স্বাধীনতা প্রত্যাখ্যান করার ও বিষয়টি বিচক্ষণতার সাথে মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত অবসানে গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলিতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ওই সমঝোতার অধীনে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালির মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য কোনো বড় চুক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক নানা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কানাডার আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই সম্মেলন কোনো দরকষাকষির মঞ্চ নয়, বরং ভেঙে পড়া পারস্পরিক বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের একটি আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ান ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান এশিয়ান আর্ট মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এই শীর্ষ বৈঠককে সম্পর্কের চরম অবনতি ঠেকানোর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
