হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বহুপ্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক কোনো স্থায়ী বড় সমাধান ছাড়াই সমাপ্ত হয়েছে। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম ওয়াশিংটন সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই নেতা প্রায় দেড় ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন।
দুই নেতার আলোচনায় ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের উষ্ণতা প্রকাশ পেলেও মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিত থেকে গেছে।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর থেকেই তাদের মধ্যে একটি চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা গড়ে উঠেছে। তবে এই আনুষ্ঠানিকতার ভেতরেই আলোচনার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করেছে প্রধান চারটি ক্ষেত্র। প্রথমত, দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংঘাতের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আরও দুই মাস বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত থাকলেও কৃষিপণ্য ক্রয় ও বিরল খনিজ সরবরাহের বিরোধগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ান নিয়ে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দূরত্বের কোনো অবসান ঘটেনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে স্বাধীন তাইওয়ানের সরাসরি বিরোধিতা করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি তাগিদ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত থাকা এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তেল বাণিজ্য সীমিত করতে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের মার্কিন প্রত্যাশাও আলোর মুখ দেখেনি।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে পারস্পরিক নিরাপত্তা তথ্য আদান-প্রদানের প্রাথমিক আলোচনা হলেও কোনো যৌথ নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা স্বাক্ষরিত হয়নি। ঐতিহাসিক বৈরিতার বিষয়ে সতর্ক করে শি জিনপিং উল্লেখ করেন যে উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যকার ঐতিহাসিক সংঘাত বা ফাঁদ এড়িয়ে সুস্থ প্রতিযোগিতার পথ বেছে নেওয়া সম্ভব। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনেকে অবশ্য শীর্ষ বৈঠকের এই সমঝোতাকে কার্যকর অগ্রগতির চেয়ে প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা বলেই বর্ণনা করছেন।
