শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাত দিনের রূপরেখা

ডোনাল্ড ট্রাম্প: হরমুজ খোলার ইরানি প্রস্তাব নাকচ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

ডোনাল্ড ট্রাম্প: হরমুজ খোলার ইরানি প্রস্তাব নাকচ

চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে তেহরানের দেওয়া সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইরানের এই কূটনৈতিক রূপরেখা ও পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার প্রস্তাব নাকচ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাল।

কূটনৈতিক প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় পুরো অঞ্চলে সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের আগেই তেহরান থেকে স্পষ্ট সামরিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। দেশটির আধা-সরকারি মেহর বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি কোনো ধরনের সামরিক হামলার ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা সব মার্কিন মোতায়েন কেন্দ্র ও কৌশলগত স্বার্থকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের পর তা নিরসনের সম্ভাবনা আরও দূরে সরে গেল।

উপসাগরীয় এই উত্তেজনার সমান্তরালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রণক্ষেত্রেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জরুরি চিকিৎসাসেবা সূত্র। একই দিনে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে আরও এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত বছরের তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় দখলদারদের হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে।

আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

যুক্তরাজ্যের লিভারপুল শহরে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জাতীয় সম্মেলনের প্রাক্কালে হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রশাসনের প্রতি দখলদার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। একই সময়ে ইয়েমেনের তাইজ, লাহেজ, মারিব ও আল জাওফ অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র স্থল লড়াই শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের আরেক সংবেদনশীল প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালী ঘিরেও রক্তক্ষয়ী সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

banner
Link copied!