রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

খাদ্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য কি স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় ক্ষতিকর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

প্রক্রিয়াজাত খাদ্য কি স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় ক্ষতিকর

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আধুনিক জীবনের প্রতিটি অংশে জড়িয়ে পড়ায় এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সাধারণ নীতি অনুযায়ী যেসব পণ্যে পাঁচটির বেশি উপাদান থাকে এবং অন্তত একটি উপাদান প্রচলিত রান্নাঘরের বাইরে থেকে আসে—যেমন কৃত্রিম স্বাদবর্ধক, ইমালসিফায়ার বা বিশেষ রাসায়নিক—সেগুলোকে অতি-প্রক্রিয়াজাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের খাবার স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এখনো একমত হতে পারেননি যে ক্ষতির মূল কারণ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়া, নাকি খাবারের ভেতর থাকা উচ্চমাত্রার চিনি, লবণ ও চর্বি।

যুক্তরাজ্যে মানুষের প্রতিদিনের মোট ক্যালরির অর্ধেকের বেশি আসে প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে।

চিকিৎসক ক্রিস ভ্যান টুলেকেন জানান, সাধারণ মানুষের পক্ষে এই খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে খাবারগুলো এমনভাবে তৈরি করে যাতে ভোক্তারা একটানা খেয়ে যেতে বাধ্য হন। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের এই প্রবণতা গুরুতর শারীরিক সমস্যা ডেকে আনছে। এজন্য প্যাকেটের গায়ে চর্বি, লবণ ও চিনির সুস্পষ্ট মাত্রা উল্লেখ করে কঠোর লেবেলিং চালুর পক্ষে মত দেন তিনি।

ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষজ্ঞ মেভ হানান ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ব্র্যান ফ্লেক্সের মতো খাদ্যপণ্য অতি-প্রক্রিয়াজাত হলেও তার উল্লেখযোগ্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। উপাদানের তালিকা দীর্ঘ হলেই কোনো খাবার ক্ষতিকর হয়ে যায় না, বরং তার সামগ্রিক পুষ্টিমান বিবেচনা করা প্রয়োজন। খাদ্যপণ্যের উপাদানগুলোর নিরাপত্তা খাদ্য আইনে কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।

চিকেন নাগেটের মতো খাবারে ময়দার সাথে ক্যালসিয়াম কার্বনেট, নিয়াসিন ও থায়ামিনের মতো উপাদান যুক্ত করা যুক্তরাজ্যের আইনে বাধ্যতামূলক। একইসাথে খাবারের গঠন হালকা ও মুচমুচে রাখতে অনুমোদিত সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও ডাইসোডিয়াম ডাইফসফেট ব্যবহার করা হয়। এসব খাবারে সাধারণ মুরগির মাংসের তুলনায় লবণ ও চর্বি বেশি থাকে, তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই নিয়ম।

বাস্তব জীবনে শতভাগ প্রক্রিয়াজাতমুক্ত থাকা পরিবারের জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। দুই সন্তানের মা মেগান ব্যামফোর্ড নিজের শারীরিক সমস্যার কারণে এ জাতীয় খাবার বাদ দেওয়ার চেষ্টা করলেও সন্তানদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল হতে পারেননি। তিনি জানান, সন্তান খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে হওয়ায় অসুস্থতা এড়াতে তাকে প্যাকেটজাত খাবারের ওপরও নির্ভর করতে হয়।

খাদ্যবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডেভিড জুলিয়ান ম্যাকক্লেমেন্টস মনে করেন, প্রক্রিয়াজাতকরণের ধারণাকে অতিরিক্ত নেতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন কোনো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি। যুক্তরাজ্যের ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশন জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে উৎপাদিত পণ্যে লবণ, চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমানো হয়েছে এবং সরকারি খাদ্যনীতি মেনেই পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

banner
Link copied!