বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পিটার মগয়ার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের জাতীয়তাবাদী সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর সংসদীয় দায়মুক্তি প্রত্যাহার করেছে হাঙ্গেরির জাতীয় সংসদ। সোমবার দেশটির আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে একযোগে ভোট দেন, যার ফলে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনীত পৃথক অভিযোগের ফৌজদারি তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পথ সুগম হয়েছে। হাঙ্গেরির ইতিহাসে কোনো ক্ষমতাসীন সরকারপ্রধানের সংসদীয় সুরক্ষা প্রত্যাহারের ঘটনা এটিই প্রথম।
সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই প্রস্তাব বিপুল সমর্থনে পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী মগয়ারের বিরুদ্ধে একটি চুরির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ২০২৪ সালের জুন মাসে বুদাপেস্টের একটি বিনোদনকেন্দ্রে ভিডিও ধারণকারী এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তবে তিনি নিজেই দলের সংসদ সদস্যদের তার সুরক্ষার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মগয়ার জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোশ উন্মোচন করতেই তিনি তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইনের চোখে সাধারণ নাগরিক ও সরকারপ্রধানের অধিকার অভিন্ন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে ওরবানের দীর্ঘ শাসনামলের শীর্ষ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এই প্রথম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
সংসদে সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী বালাজ হাঙ্কো এবং সাবেক জাতীয় উন্নয়ন মন্ত্রী মিকলোস সেসতাকের বিরুদ্ধে তহবিল আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কৌঁসুলিদের দাবি, সরকারি সাংস্কৃতিক তহবিল দলীয় প্রচারণায় ব্যয় এবং পরিবহন খাতে বিভিন্ন কেনাকাটায় অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত সাবেক দুই মন্ত্রী এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
সাবেক ক্ষমতাসীন দল ফিদেস এবং তাদের জোটের সদস্যরা বিচারিক এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দাবি করে পুরো অধিবেশন বয়কট করেছে। সংসদের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। নতুন আইন অনুযায়ী স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
