সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকারে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানের ঠিক আগেই পাঁচজন জিম্মি নাবিককে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সোমালি দস্যুদের হাতে নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
নৌপথে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে।
পুন্টল্যান্ডের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী `এমটি অনার ২৫` নামের জাহাজটি মুক্ত করতে নৌবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করার আগেই দস্যুরা জিম্মিদের ওপর গুলি চালায়। নিহতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি, একজন ভারতীয় এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আরো চারজন নাবিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের এবং একজন ভারতের নাগরিক। রক্তক্ষয়ী এই অভিযানের মধ্য দিয়ে জাহাজটি মুক্ত করার পাশাপাশি ১৬ জন সন্দেহভাজন দস্যুকে আটক করা হয়েছে।
জাহাজটিতে ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল জ্বালানি তেল ছিল।
গত ২১ এপ্রিল সোমালিয়া উপকূল থেকে এই জাহাজটি ছিনতাই করে দস্যুরা। পুন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্স জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জাহাজটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযান প্রসঙ্গে পুন্টল্যান্ডের মৎস্য ও সামুদ্রিক সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির সালাহ জানান, তাদের জলসীমা রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিল, এই সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে তাদের জবাব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও `সিবু ১` নামের আরেকটি অপহৃত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ উদ্ধার করেছিল উপকূলীয় বাহিনী। তবে সেই অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৪১ জন দস্যুর মধ্যে ২৮ জন কারাগারে নেওয়ার পথে পালিয়ে যায়, যা নিয়ে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সোমালিয়া উপকূলে অন্তত ১৫টি হামলার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ নিয়েই আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটে দস্যুরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
পুন্টল্যান্ড কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তাদের সীমানায় বর্তমানে আর কোনো অপহৃত জাহাজ নেই। তবে পার্শ্ববর্তী গালমুদুগ রাজ্যের উপকূলে জুলাই মাসে ছিনতাই হওয়া `এমটি আসানা` নামের আরেকটি নৌযান এখনো আটকে রেখেছে দস্যুরা। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সোমালি জলদস্যুদের তাণ্ডবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।
