তোপের মুখেও সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিবাদ ও শীর্ষ খেলোয়াড়ের বয়কট উপেক্ষা করে ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে আয়ারল্যান্ড। ডাবলিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার দলের প্রধান কোচ হেইমির হালগ্রিমসন এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন। গাজায় পরিচালিত রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের জেরে ম্যাচটি বর্জনের দাবি উঠলেও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড সূচি অনুযায়ী মাঠে নামার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে।
মাঠের বাইরে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে।
আইসল্যান্ডীয় কোচ হালগ্রিমসন জানান, ফুটবল সংস্থাই দুটি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে এবং দল কেবল মাঠের ফুটবলেই মনোযোগ ধরে রাখতে চাইছে। এর আগে গত রবিবার হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগে ইসরায়েলকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আইরিশরা। তবে ম্যাচ শুরুর চব্বিশ ঘণ্টা আগে নৈতিক কারণ দেখিয়ে দল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন দলটির প্রধান গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামা তার বিবেকের বিরুদ্ধে যায়।
দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচটি সার্বিয়ায় দর্শকহীন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম সাক্ষাতের সময় আইরিশ ফরোয়ার্ড অ্যাডাম ইদাহকে লক্ষ্য করে গ্যালারি থেকে বর্ণবাদী অঙ্গভঙ্গি ও বানরের ডাক দেন ইসরায়েলি দর্শকেরা। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও টুর্নামেন্ট আয়োজক উয়েফা এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আইরিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বর্ণবাদী আচরণের প্রমাণ মিললেও মাঠে তাৎক্ষণিক প্রটোকল অনুসরণ না করায় উয়েফা তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে অপারগতা জানিয়েছে। একই সঙ্গে গ্যালারি থেকে সামরিক প্রচারণামূলক স্লোগান তোলার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
আগের ম্যাচের মতো আগামী রবিবারের খেলায়ও নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে কালো আর্মব্যান্ড পরে নামবেন আইরিশ ফুটবলাররা। প্রথম সাক্ষাতে প্রতিপক্ষের জাতীয় সংগীত বাজার সময় আইরিশ খেলোয়াড়রা মাথা নিচু করে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এবং ম্যাচ-পূর্ব আনুষ্ঠানিক করমর্দন এড়িয়ে যান।
