বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজা ও আঞ্চলিক সংকট

গাজায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। মঙ্গলবার এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোনো অজুহাত বা যুক্তি দিয়েই অবরুদ্ধ এই উপত্যকার মানবিক বিপর্যয়কে সমর্থন করা সম্ভব নয়। প্রথম দিন থেকেই মধ্যস্থতাকারীদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে শান্তি আলোচনা নস্যাতের জন্য তিনি তেল আবিবকে দায়ী করেন।

কোনো যুক্তিতেই এই নৃশংসতাকে বৈধতা দেওয়া যায় না।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৩ সালের সাত অক্টোবরের হামলা যেমন নিন্দনীয় ছিল এবং তার দায়ীদের জবাবদিহিতা প্রয়োজন, তেমনি এর বিপরীতে চলমান ইসরায়েলি বর্বরতা সম্পূর্ণ অন্যায্য। উপত্যকাজুড়ে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে লাগাতার বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই সেখানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই দফায় অন্তত এক হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে সামরিক নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তেল আবিব।

দোহায় শান্তি মধ্যস্থতা চলাকালে সরাসরি আঘাত হানার প্রসঙ্গ টেনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করার সময় কাতারের মাটিতে চালানো ইসরায়েলি হামলা সব কূটনৈতিক সীমা অতিক্রম করেছে। বিশ্ব ইতিহাসে মধ্যস্থতাকারী দেশের ওপর এ ধরনের আক্রমণ নজিরবিহীন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সীমারেখা লঙ্ঘন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাতার শান্ত কূটনীতিতে বিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষের আন্তরিকতার অভাব স্পষ্ট।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনেও কাতার এবং পাকিস্তান যৌথভাবে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ মোহাম্মদ জানান, বর্তমান আঞ্চলিক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে তিনটি মৌলিক বিষয়ের সমাধান জরুরি। প্রথমত, তেহরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক অধিকার নিশ্চিত করে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীতে সব দেশের মুক্ত নৌচলাচল নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার দেশসমূহ ও ইরানের মধ্যে কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামো গঠন করা।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পরস্পরের প্রতি অনাক্রমণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। জ্বালানি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে পারলে গোটা অঞ্চল নিজেদের প্রকৃত সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে তিনি অভিমত দেন।

banner
Link copied!