কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অতিমূল্যায়ন আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে মারাত্মক ধাক্কা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি। প্রযুক্তি খাতে ঢালাও বিনিয়োগের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের মূল্য ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাজারে বড় ধরনের মূল্যের পতন বা সংশোধন দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যকে আগাম প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বাজারের সব প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন গভর্নর।
গভর্নর বেইলি উল্লেখ করেছেন, ইন্টারনেট সার্চের সূচনালগ্নে নেটস্কেপ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল, গুগল নয়; অথচ আজ নেটস্কেপের কোনো অস্তিত্ব নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে এই ধরনের নতুন প্রযুক্তির উত্থানে প্রতিটি বিনিয়োগকারী লাভবান হতে পারেন না। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় ৪ দশমিক ১৪ ট্রিলিয়ন পাউন্ড। পাশাপাশি অ্যালফাবেট, মেটা, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো এই খাতে শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আরও দুই প্রধান প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক এবং ওপেনএআই মার্কিন শেয়ারবাজারে অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।
আর্থিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির অপব্যবহারের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
হ্যাকারদের হাতে পৌঁছালে এই প্রযুক্তি বিপজ্জনক সমরাস্ত্রে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। বিভিন্ন সফটওয়্যারের গোপন কারিগরি ত্রুটি ও দুর্বলতা খুঁজে বের করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এছাড়া ভুয়া ছবি ও ভিডিও বা ডিপফেকের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকিও বাড়ছে। গত জুন মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলির সঙ্গে রাজনীতিবিদ নাইজেল ফারাজের কৃত্রিমভাবে তৈরি মারামারির ছবি প্রচার করা হয়েছিল, যার উৎস শনাক্ত করতে গিয়ে জটিলতার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সুদের হার নির্ধারণে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটির অভ্যন্তরীণ কাজের গতি বাড়াতে এই প্রযুক্তি ইতিবাচকভাবে কাজে আসছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে সরকারি ঋণের বাজারে বিনিয়োগের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটেই এই উচ্চ সতর্কবার্তা এলো।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জাপানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সরকারি ঋণের খরচ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। লন্ডনে ৩০ বছর মেয়াদী ব্রিটিশ বন্ডের মুনাফার হার বা ইল্ড বেড়ে ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯৯৮ সালের পর আর দেখা যায়নি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছর মেয়াদী বন্ডের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও লাগাতার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে যাওয়ায় সরকারি বন্ডের ওপর থেকে পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
