ম্যানচেস্টার সিটির আপিল শুনানিতে বিতর্কিত স্পনসরশিপ তহবিল ক্লাবের মালিকপক্ষের নয় বরং সরাসরি আবুধাবি সরকারের কোষাগার থেকে এসেছে বলে নতুন তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধিমালা সংক্রান্ত স্বাধীন কমিশনের শুনানিতে ক্লাবটির বিরুদ্ধে ১১৪টি অভিযোগে অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর ক্লাবটি আর্থিক নিয়মনীতি ভঙ্গ করে কৃত্রিম উপায়ে আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
অভিযোগগুলো বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে শুক্রবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে ক্লাবটি।
স্বাধীন কমিশনের রায়ে বলা হয়েছে, ক্লাবটির মালিকপক্ষ ভুয়া স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও আবুধাবির ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্য শেখ মনসুরের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ কোম্পানি `আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ` প্রায় ৮৩ কোটি ৯ লাখ পাউন্ডের একটি গোপন অর্থায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাণিজ্যিক চুক্তির আকার ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখায় বলে দাবি করা হয়েছে। এই কাঠামোর ফলে ক্লাবটি ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা এবং প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মনীতি মেনে চলছে বলে কাগজে-কলমে দাবি করতে পেরেছিল। তবে আসন্ন আপিল বোর্ডে ক্লাব কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেবে যে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক স্পনসরদের কাছে পাঠানো অর্থ শেখ মনসুরের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থেকে আসেনি, বরং সরকারি তহবিল থেকে ছাড় করা হয়েছিল।
এর আগে স্বাধীন কমিশন এই যুক্তিকে অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করে রায় দিয়েছিল যে তদন্ত ধামাচাপা দিতেই ঘটনা ঘটার দীর্ঘ সময় পর ক্লাবটি এমন মনগড়া ব্যাখ্যা তৈরি করেছে।
ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক জানিয়েছেন, তাদের কাছে নির্দোষ প্রমাণের মতো অকাট্য তথ্যপ্রমাণ রয়েছে এবং কমিশনের রায়ে তথ্যগত ও আইনগত গুরুতর বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান নিয়মাবলি অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে ফুটবল ক্লাবে স্পনসরশিপ প্রদানে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এদিকে ক্লাবের প্রধান স্পনসর ইতিহাদ এয়ারওয়েজ প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। প্রকাশ্য তদন্ত প্রতিবেদনে এয়ারলাইন্সটির নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও এই সিদ্ধান্তের ফলে বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলের মালিকানাধীন ইতিহাদ এয়ারওয়েজ কোনো ধরনের অনিয়ম বা অনৈতিক আর্থিক চুক্তির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। চলমান এই বিরোধ নিয়ে মন্তব্য করার অনুরোধ জানানো হলেও প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হয়নি।
