শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রূপচর্চা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ: সামাজিক মাধ্যমে রূপচর্চা বিতর্ক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ: সামাজিক মাধ্যমে রূপচর্চা বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরীরকে নির্মেদ ও পেট দ্রুত সমতল করার দাবি তুলে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী অ্যাবি আলেকজান্দ্রার মতো অনেক তরুণী শরীর চর্চায় কাঠের তৈরি রোলার ও তেল ব্যবহার করে পেটে ম্যাসাজ করার দৃশ্য টিকটকে প্রচার করছেন। আন্তর্জাতিক তারকা মায়া জামা ও হেইলি বিবারের মতো ব্যক্তিত্বরাও এই পদ্ধতির প্রশংসা করায় বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটছে।

তবে এই শারীরিক পরিবর্তন কতটা বাস্তব তা নিয়ে সতর্ক করেছেন চিকিৎসা গবেষকরা।

ভিডিওগুলোতে প্রায়ই সাধারণ স্ফীত পেটকে কয়েক মিনিটের বৃত্তাকার মালিশের পর সমতল ও সংকুচিত দেখাতে দেখা যায়। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের রূপ গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও স্বাস্থ্য মনোবিজ্ঞানী ডক্টর এলা গেস্ট মনে করেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এসব দৃশ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস করা অনুচিত। ক্যামেরার কোণ পরিবর্তন, ফিল্টার, বিশেষ আলোর ব্যবহার এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি করা ছবির ফলে অবাস্তব দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্যমতে, লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থা হলো মানবদেহের গ্রন্থি ও নালীর একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, যা তরলের ভারসাম্য রক্ষা ও সংক্রমণ প্রতিরোধে বর্জ্য নিষ্কাশন করে। এই ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে টিস্যুতে তরল জমে লিম্ফোডিমা নামের অস্বাভাবিক ফোলা রোগের সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যাসাজ চর্বি দূর করার কোনো মাধ্যম নয়।

চিকিৎসক ডক্টর জ্যান্ড ভ্যান তুলেকেন জানিয়েছেন, যাদের লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের চিকিৎসায় হালকা চাপে লিম্ফ নোডের দিকে তরল সরাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরাই কেবল এ ধরনের চিকিৎসা ম্যাসাজ প্রয়োগ করেন। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দেখে কোনো সুস্থ মানুষের ঘরে বসে এই ম্যাসাজ নেওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক উপযোগিতা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিয়মিত শরীরচর্চা, শারীরিক নড়াচড়া এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করাই সুস্থ মানুষের তরল প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য যথেষ্ট।

অন্যদিকে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ায় সাময়িক আরাম পেতে এই রুটিন অনুসরণ করেন বলে জানিয়েছেন আলেকজান্দ্রা। গবেষকদের মতে, ইন্টারনেটের এসব অবাস্তব শারীরিক সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের স্বাভাবিক শারীরিক গঠন নিয়ে অতিরিক্ত হীনম্মন্যতায় ভোগেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যেকোনো রূপচর্চা বা অঙ্গসংস্থানের পরিবর্তনের ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে সরাসরি নিবন্ধিত চিকিৎসকের মতামত নিয়ে শরীরের যত্ন নেওয়া উচিত।

banner
Link copied!