মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

হাঁটুর চোটের ধাক্কা

ইয়ানিক সিনেরের মৌসুম শেষ হাঁটুর চোটে ছিটকে গেলেন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

ইয়ানিক সিনেরের মৌসুম শেষ হাঁটুর চোটে ছিটকে গেলেন

ডান হাঁটুর পুরনো চোটের কারণে চলতি ২০২৬ সালের পুরো মৌসুম থেকেই ছিটকে গেছেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা ইয়ানিক সিনের। গত জুলাই মাসে উইম্বলডন শিরোপা ধরে রাখার পর থেকে ২৫ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান তারকা আর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় কোর্টে নামেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় পাঁচবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী সিনের জানান, দীর্ঘমেয়াদি খেলোয়াড়ি ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই তিনি মৌসুমের বাকি সময় আর না খেলার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি হাঁটুর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করছেন।

শতভাগ সুস্থ হয়ে কোর্টে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

চলতি মৌসুমে পুরুষ টেনিস সার্কিটে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছেন সিনের, যেখানে তাঁর জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান ছিল ৪৪ জয় এবং মাত্র ৩ হার। গত মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে টানা পাঁচটি মাস্টার্স এক হাজার শিরোপা জিতে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ‍‍`ক্যারিয়ার গোল্ডেন মাস্টার্স‍‍` জয়ের ইতিহাস গড়েন। তবে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির আলেকজান্ডার জেভরেভ চলতি বছরের শেষ নাগাদ এক নম্বর তারকা হিসেবে বছর শেষ করার পথ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন।

জেভরেভ এ বছর ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ইউএস ওপেন ঘরে তুলেছেন।

বর্তমানে লাইভ র‍্যাঙ্কিংয়ে সিনেরের চেয়ে এক হাজার ২৮০ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও জেভরেভের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত বছর চীন, ভিয়েনা, প্যারিস এবং এটিপি ফাইনালস জিতে সিনের যেসব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন, এবার না খেলায় তার কোনোটিই রক্ষা করতে পারবেন না। চলতি ২০২৬ সালে তিনটি ভিন্ন কোর্টেই মোট ছয়টি শিরোপা জিতেছেন সিনের। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে নোভাক জোকোভিচের কাছে পাঁচ সেটে হেরে যাওয়ার পর মে মাসে ফ্রেঞ্চ ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে হুয়ান ম্যানুয়েল সেরুন্দোলোর কাছে হেরে তাঁর টানা ৩০ ম্যাচের জয়ের ধারা থমকে গিয়েছিল।

প্যারিসের সেই ধাক্কা কাটিয়ে উইম্বলডনে অবিশ্বাস্য প্রত্যয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন সিনের। সেখানে প্রথম রাউন্ডে পায়ে আঘাত ও রক্তক্ষরণের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করে পাঁচ সেটের ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জেভরেভকে হারিয়ে শিরোপা রক্ষা করেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কার্লোস আলকারাজের সাথে এ বছর তাঁর কেবল একবারই দেখা হয়েছিল। মন্টে কার্লো মাস্টার্স ফাইনালে আলকারাজকে হারিয়েই তিনি স্প্যানিশ তারকাকে সরিয়ে বিশ্ব এক নম্বর আসনটি পুনরুদ্ধার করেছিলেন।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে চলতি বছর তাঁর সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। এগারোটি লড়াইয়ের মধ্যে দশটিতেই জয় পেয়েছেন সিনের, যার একমাত্র পরাজয়টি ছিল বছরের শুরুতে মেলবোর্নে জোকোভিচের বিপক্ষে।

banner
Link copied!