মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সুদানে যুদ্ধবিরতির দাবি

সুদানে যুদ্ধবিরতি ও তদন্তের মেয়াদ বাড়াল জাতিসংঘ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

সুদানে যুদ্ধবিরতি ও তদন্তের মেয়াদ বাড়াল জাতিসংঘ

সুদানে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা ও অব্যাহত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সব পক্ষকে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সোমবার এক বিশেষ অধিবেশনে পরিষদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চলমান এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি নিশ্চিত করেছে যে উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে তাদের খাদ্য সরবরাহকারী একটি ট্রাকে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

সংঘাত কবলিত এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের বেঁচে থাকার পথ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।

জেনেভায় ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট মানবাধিকার কাউন্সিলে সুদানের যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন খতিয়ে দেখতে গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধানকারী দলের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোটাভুটি হয়। অধিবেশনে প্রস্তাবটির পক্ষে ২৮টি সদস্য দেশ ভোট দেয় এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয় ১০টি দেশ। এছাড়া ভোটাভুটিতে অংশ না নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে ৯টি দেশ। সুদান সরকার কাউন্সিলকে এই প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করার জোর দাবি জানিয়েছিল। দেশটির প্রতিনিধিদের অভিযোগ, তাদের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ ও আপত্তিকে এই নীতিমালায় কোনোভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

সামরিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি ড্রোন হামলার তীব্রতা এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

আফ্রিকার এই দেশটিতে জাতীয় সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরের এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে দশ সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধের কারণে এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে উদ্বাস্তু হয়েছেন। সুদানের উত্তর কর্ডোফান অঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেনাবাহিনী অগ্রযাত্রা শুরুর চেষ্টা চালালেও আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলার পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের গৃহীত এই নতুন প্রস্তাবে কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন যাচাইয়ে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া জরুরি নাগরিক অবকাঠামোগুলো দ্রুত পুনর্নির্মাণের তাগিদ দেওয়া হয়। সাধারণ নাগরিকদের ওপর যেকোনো আক্রমণ যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা।

ত্রাণবাহী কনভয়ে ধারাবাহিক হামলার কারণে মানবিক খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

আফ্রিকা অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতাদের আরও কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম শেষ হয়।

banner
Link copied!