বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডোপিংবিরোধী কড়া বার্তা

ডোপিংমুক্ত হতে কেনিয়াকে বিশ্ব সংস্থার কড়া হুঁশিয়ারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

ডোপিংমুক্ত হতে কেনিয়াকে বিশ্ব সংস্থার কড়া হুঁশিয়ারি

২০২৯ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে কেনিয়াকে অবশ্যই ডোপিংমুক্ত ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব ডোপিংবিরোধী সংস্থা ওয়াডা। সংস্থাটির সভাপতি ভিতোল্ড বাঙ্কা নাইরোবিতে তিন দিনের সফর শেষে এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন। এই সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো, সরকারি ও ক্রীড়া কর্মকর্তা, কেনিয়ার ডোপিংবিরোধী সংস্থা আদাক, অ্যাথলেট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন।

কথার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপই এখন আসল পরীক্ষা।

গত সেপ্টেম্বরে কেনিয়াকে ২০২৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাগতিক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, যার মধ্য দিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে তারা এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা আয়োজনের অধিকার পায়। তবে এই ঘোষণার পরপরই দেশটির দীর্ঘদিনের ডোপিং সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরদারি বেড়েছে। ২০১৭ সাল থেকে অ্যাথলেটিকস ইন্টিগ্রিটি ইউনিট ১৪০ জনেরও বেশি কেনিয়ান দৌড়বিদকে নিষিদ্ধ করেছে, যাদের বেশিরভাগই দূরপাল্লার অ্যাথলেট। সাবেক বিশ্বরেকর্ডধারী হাফ ম্যারাথন দৌড়বিদ কিবিওয়ট কান্দিকেও সাত বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে।

পরীক্ষাগারের ঘাটতি পুরো মহাদেশের জন্যই বড় বাধা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেনের গবেষণাগার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৪ সালের মার্চে স্থগিত এবং ২০২৫ সালের মে মাসে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়। ফলে বর্তমানে পুরো আফ্রিকায় ওয়াডার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো পরীক্ষাগার নেই। কেনিয়া নিজস্ব গবেষণাগার স্থাপনে আগ্রহ দেখালেও ২০২৯ সালের প্রতিযোগিতার আগে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক অনুমোদন পাওয়া বাস্তবসম্মত নয় বলে সতর্ক করেছেন বাঙ্কা। ল্যাব ভুলের কারণে খেলোয়াড়দের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে বলেই এই আন্তর্জাতিক অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর সময় প্রয়োজন হয়।

পোল্যান্ডের সাবেক এই ক্রীড়ামন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, ডোপিং কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা পতাকার সমস্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি কিংবা পোল্যান্ডেও এমন অপরাধের নজির রয়েছে। অ্যাথলেটরা এই চক্রের সবচেয়ে দুর্বল অংশ এবং অনেকেই প্রভাবশালী ও অর্থশালীদের মুনাফার শিকারে পরিণত হন। মাঠের দৌড়বিদদের পাশাপাশি এই অপরাধের পেছনে থাকা কোচ, চিকিৎসক, ব্যবস্থাপক এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ ওষুধ সরবরাহকারী চক্রকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন যে কেনিয়াতেই এখন নিষিদ্ধ ওষুধ তৈরি হচ্ছে এবং আফ্রিকা এর একটি বড় বাজারে পরিণত হয়েছে।

banner
Link copied!