বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃত্রিম বৃষ্টি প্রযুক্তি

ড্রোনে কৃত্রিম বৃষ্টির পরীক্ষা: পরিবেশ ও সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

ড্রোনে কৃত্রিম বৃষ্টির পরীক্ষা: পরিবেশ ও সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক

আলাস্কার আকাশে আধুনিক ড্রোনের সাহায্যে রাসায়নিক যৌগ ছিটিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরির একটি গোপন পরীক্ষা চালিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রেইনমেকার। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তিন ঘণ্টার এই ড্রোন অভিযানে মেঘমালার ভেতর প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মার্কিন গ্যালন পানি সঞ্চার করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের না জানিয়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আলাস্কার হোমার অঞ্চলের বহু অধিবাসী এই রাসায়নিক পরীক্ষার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।

সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটির আলাস্কা পরিচালক কুপার ফ্রিম্যান জানিয়েছেন, মেঘের ভেতরে সিলভার আয়োডাইড যৌগ ছিটানোর পর স্থানীয় পরিবেশ বা মাটিতে এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েছে কিনা তা যাচাইয়ে কোনো নজরদারি ছিল না। তার মতে, কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানোর বাণিজ্যিক প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে সুপেয় পানির সংকট মেটাতে পারবে না, বরং তা মূল সংকট থেকে নজর সরিয়ে দেওয়ার শামিল। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে নদীগুলোর প্রবাহ গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে মানবজাতি প্রাকৃতিক পুনর্ভরণের চেয়ে দ্রুত বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করছে।

জলবায়ুর এই সংকটের মধ্যেই বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রযুক্তি তৈরিতে কাজ করছে। রেইনমেকারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অগাস্টাস ডোরিকো রাসায়নিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তাদের প্রতিটি ড্রোন ফ্লাইটে মাত্র ২০ গ্রাম সিলভার আয়োডাইড ব্যবহার করা হয় যা কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটারে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মাটিতে এই রাসায়নিকের ঘনত্ব আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক নিচে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো, ইউটাহ, কলোরাডো এবং পানি সংকটে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে কাজ করছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টির এই প্রযুক্তি নতুন কোনো ঝড় তৈরি করতে পারে না বরং কেবল বিদ্যমান মেঘ থেকে কিছুটা অতিরিক্ত বৃষ্টি নামাতে সহায়তা করে। ইউটাহ ক্লাইমেট সেন্টারের সহকারী ক্লাইমেটোলজিস্ট জন মেয়ার জানান, পরিবেশের আদর্শ পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি বৃষ্টিপাত ঘটাতে সক্ষম।

এদিকে রাসায়নিক যৌগের ঝুঁকি কমাতে সম্পূর্ণ জৈব বিকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে অপর মার্কিন প্রতিষ্ঠান রিকাস্ট সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী অলিভিয়া লি জানিয়েছেন, তারা মাটির অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে তৈরি এক ধরনের প্রোটিন ব্যবহার করে মেঘে বরফ কণা তৈরির পরীক্ষা চালাচ্ছেন যা প্রকৃতিতে পুরোপুরি পচনশীল। নতুন এই পরিবেশবান্ধব উপাদানটি বর্তমানে টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

banner
Link copied!