আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার ইসলামাবাদে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলকোলতসেভের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি সামুদ্রিক নৌযান চলাচল, জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
হরমোজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের বুক দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন পাকিস্তানি এই নেতা। তিনি সতর্ক করে বলেন যে চলমান এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং সাপ্লাই চেইনের সামনে মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাশিয়ার কোনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য এটিই প্রথম পাকিস্তান সফর। চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে অবস্থান করছেন।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।
রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলকোলতসেভ মন্তব্য করেন যে বাণিজ্যের এই পরিমাণ এখনও প্রকৃত সম্ভাবনার তুলনায় কম। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক সদিচ্ছাকে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান যে বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ানোর মতো যথেষ্ট সুযোগ এখনও রয়েছে।
এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের আলোচনার মূল এজেন্ডায় ছিল সংঘবদ্ধ অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, অবৈধ অস্ত্র, মাদক পাচার ও সাইবার অপরাধ দমন।
সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আলোচনায় টেলিফোন প্রতারণা, ফিশিং কার্যক্রম এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি পিরামিড স্কিমের মতো বিষয়গুলো স্থান পায়। ইসলামাবাদে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে মস্কো ও ইসলামাবাদের মধ্যকার এই আইন প্রয়োগকারী সহযোগিতা বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
