ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকারি বাহিনী, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন সামরিক অবস্থান ও হুথি যোদ্ধাদের ব্যবহৃত যুদ্ধ সরঞ্জাম। মঙ্গলবার তায়েজ প্রদেশে মোট নয়টি পৃথক বিমান আঘাত হানে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই অভিযানের অংশ হিসেবে ধুবাব জেলায় পাঁচটি এবং আল-মাসরাখ জেলায় চারটি সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়।
তায়েজের আল-শাকাব অঞ্চলে বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সামরিক মিডিয়া সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টলাইনে সরকারি অনুগত বাহিনী এবং আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হুথি যোদ্ধারা সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান করছে। বিমান হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভারী অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইয়েমেনি নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডম জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় তায়েজে হুথিদের দিক থেকে চালানো হামলায় পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানসহ অন্তত পাঁচজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও ১৭ জন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে অন্তত ১৮০টি কামানের গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে, যার ফলে কমপক্ষে সাতটি বেসামরিক ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সূচনা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামরিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে এই সংঘাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে মাঠপর্যায়ের ব্যাপক সংঘাত সাময়িকভাবে থিতিয়ে আসে। কিন্তু গত জুলাই মাসে সৌদি আরবের প্রধান বন্দরসমূহ এবং কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথিরা নৌ-অবরোধ ঘোষণা করলে নতুন করে সংকট দানা বাঁধে।
উম্মাহ কণ্ঠ ডট কম-এর সামরিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে কৌশলগত বন্দর নগরী মোখায় হুথিদের সাঁড়াশি স্থল অভিযানের ফলে সরকারি বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ড হারায়। একই সময়ে বিদ্রোহী যোদ্ধারা পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মায়্যুন দ্বীপের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সাম্প্রতিক এই বিমান হামলা এবং পদাতিক সংঘাত সেই হারানো কৌশলগত অবস্থান পুনরুদ্ধারে সরকারি বাহিনীর নতুন সামরিক প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
