বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

বিভিন্ন দেশে নবীজির জন্মদিনের ভিন্নধর্মী সব আয়োজন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

বিভিন্ন দেশে নবীজির জন্মদিনের ভিন্নধর্মী সব আয়োজন

নবীজি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে নানা বর্ণিল আয়োজন দেখা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে এই পবিত্র জন্মোৎসবটি প্রধানত ঈদে মিলাদুন্নবী নামে পরিচিত হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি মাওলিদ আন-নাবী বা সংক্ষেপে মাওলিদ নামে সমাদৃত। ভৌগোলিক দূরত্ব ও সংস্কৃতির ভিন্নতা সত্ত্বেও নবীজির জীবন ও আদর্শ স্মরণের এই উপলক্ষটি দেশভেদে নিজস্ব রূপ লাভ করেছে।

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সালে শহরে মাওলিদ উদযাপনের অংশ হিসেবে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মোমবাতির শোভাযাত্রা বের হয়। মসজিদের মিনারের আদলে তৈরি রঙিন ও বিশাল আকৃতির মোমের কাঠামো নিয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় সংস্কৃতির একটি স্বতন্ত্র পরিচায়ক। অন্যদিকে মিসরে মাওলিদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মিষ্টি ও লোকজ উৎসবের সংস্কৃতি। কায়রোর বাজারে চিনি দিয়ে তৈরি ঘোড়া ও পুতুলের আকৃতির মিষ্টি বা আরুসা আল-মাওলিদ শিশুদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়, যা পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে ভাগ করে নেওয়ার রীতি রয়েছে।

তুরস্কে এই দিনটি মেভলিদ কান্দিলি নামে পরিচিত এবং এ উপলক্ষে দেশের ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর মিনারগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া এবং সিরাত আলোচনার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। তিউনিসিয়ায় মাওলিদের প্রধান আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী আসিদাত জগুগু নামক মিষ্টান্ন, যা জগুগু বীজ, দুধ ও চিনির মিশ্রণে তৈরি করে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় জাভা দ্বীপের গুনেংগান শোভাযাত্রা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেখানে ফল, শস্য ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে বিশাল স্তূপ সাজিয়ে মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। পাকিস্তানের বড় শহরগুলোতে রবিউল আউয়াল মাসজুড়ে মসজিদ ও সড়কে ব্যাপক আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় জলসা ও জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগালে গামু নামে পরিচিত রাতভর ধর্মীয় সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ অংশ নেন।

সোমালিয়া ও ইরাকের মতো দেশগুলোতেও জিকির, কাসিদা এবং ধর্মীয় সমাবেশের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। বিশেষ করে ইরাকের বাগদাদে শেখ আবদুল কাদির আল-জিলানির মাজারকে কেন্দ্র করে বড় জমায়েত হয়। ভারতের কাশ্মীরের হজরতবাল শরিফে পবিত্র স্মারক প্রদর্শনী ও ইয়েমেনের সানায় সবুজ রঙের পতাকা ও ব্যানার দিয়ে শহর সাজানোর দৃশ্য বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে।

মাওলিদ পালন নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতপার্থক্য থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের এই মাধ্যমগুলো স্থানীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বৈচিত্র্যময় এসব রীতি ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে নবীজির জীবন ও শিক্ষা স্মরণের অনন্য এক বৈশ্বিক চিত্র ফুটে ওঠে।

banner
Link copied!