মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ অভিবাসীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের দুই লাখ অভিবাসীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় দুই লাখ বিদেশি নাগরিকের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স সোমবার জানিয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা দেশটির অভিবাসন ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় গণ-ভিসা বাতিলের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে। সরকারি নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মূলত যেসব বিদেশি নাগরিক স্বল্পমেয়াদী পরিদর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দুই হাজার ষোলো থেকে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের মধ্যে ইস্যুকৃত বি-এক এবং বি-দুই শ্রেণির ভিসা এই বাতিলের আওতাভুক্ত হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে প্রশাসন এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের ভিসা বাতিল করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কাজ করছে। তবে ঠিক কতগুলো ভিসা বাতিল করা হবে, সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। প্রক্রিয়াটি চলমান থাকায় এর সংখ্যা পরিবর্তনশীল হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এই ভিসার স্থগিতা আদেশ বা বাতিলের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। যাদের আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে, তাদের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা হতে পারে। তবে তারা ব্যবসা বা পর্যটন ভ্রমণকারীর বৈধ সুবিধা হারাতে পারেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনভার গ্রহণের পর থেকেই অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা, সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস যাচাই বাধ্যতামূলক করা এবং নানা ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় এক লক্ষ পঁচাত্তর হাজার ভিসা বাতিল করেছিল পররাষ্ট্র দপ্তর।

অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধ এবং আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করার যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অপ্রয়োজনীয় ও ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই নতুন পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত হতে পারে। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই ধরনের কঠোর নীতির তীব্র সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ মৌলিক মানবাধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

এদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বিদেশি দক্ষ কর্মীদের কাজের ভিসা সংক্রান্ত ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এসব নানামুখী পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

banner
Link copied!