সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কানাডার গাড়ি ও ইস্পাতে ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

কানাডার গাড়ি ও ইস্পাতে ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর থেকে কানাডার গাড়ি, ট্রাক, যন্ত্রাংশ এবং ইস্পাতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যা রয়টার্স এবং আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগের দিনগুলোতে বিভিন্ন কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল এবং নতুন এই ঘোষণাটি সেই বাণিজ্য উত্তেজনারই ধারাবাহিকতা।

ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন যে কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ক্ষেত্রে অন্যায় সুবিধা নিয়ে আসছে এবং কৃষিপণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে আমেরিকান কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদন করবে তাদের কোনো শুল্ক প্রদান করতে হবে না। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ গত বছর উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাণিজ্যিক সম্পর্কের বরফ গলানোর পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।

কানাডার পক্ষ থেকে এই হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে অটোমোবাইল শিল্প বিশেষজ্ঞরা এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কানাডার অটোমোটিভ পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার্সের প্রধান লাভিও ভলপে সতর্ক করে বলেছেন যে মার্কিন যন্ত্রাংশের ওপর এই ধরনের উচ্চ শুল্ক শেষ পর্যন্ত মার্কিন গাড়ি নির্মাতাদেরই বহন করতে হবে। কারণ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের জোগান ব্যাহত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গাড়ি সংযোজন কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই ঘোষণাটি মূলত অটোয়াকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার একটি রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। যেহেতু আগামী নভেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং নতুন নির্ধারিত সময় কার্যকর হতে এখনও বেশ কিছুদিন সময় বাকি রয়েছে, তাই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান এই বাণিজ্য বিরোধ উত্তর আমেরিকার অর্থনৈতিক বাজারে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্ব বাজারেও পড়তে পারে।

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের মধ্যকার আলোচনা গত শুক্রবার চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। উভয় পক্ষই আলোচনার ব্যর্থতার জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে এবং কানাডা সরকারের পক্ষ থেকেও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। উত্তর আমেরিকার এই দুই প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদারের মধ্যকার চলমান দ্বন্দ্ব বৈশিক সাপ্লাই চেইন এবং অটোমোবাইল খাতের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক মহল নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই বাণিজ্য বিরোধের ফলে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে এবং সামনের দিনগুলোতে উভয় দেশের নীতিনির্ধারকরা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!