মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ডার্বির ঘটনায় ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়লেন ব্রাইডন কার্স

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

ডার্বির ঘটনায় ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়লেন ব্রাইডন কার্স

ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার ব্রাইডন কার্সকে ডার্বির একটি ক্লাবের ঘটনার জেরে চলমান তদন্তের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সোমবার ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড নিশ্চিত করেছে। ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে গত শনিবার রাতে ডার্বির একটি স্থানীয় ক্লাবে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া এবং ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত ৩১ বছর বয়সি এই ডানহাতি পেসার পরবর্তী টেস্ট ম্যাচের জন্য আর নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য থাকবেন না। রয়টার্স এবং আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে ডারহামের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সময় এই ঘটনাটি ঘটেছিল। বোর্ড সূত্রে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে তাঁর পরিবর্তে প্রতিভাবান তরুণ পেসার সনি বেকারকে জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে জরুরি ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে ডার্বির একটি নাইটক্লাবের বাইরে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ব্রাইডন কার্সকে ঘিরে রেখেছেন এবং তার সাথে কথা বলছেন। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে উক্ত পেসারকে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করেনি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগও আনা হয়নি। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের একটি ম্যাচে ডারহামের হয়ে চমৎকার পারফর্ম করার পর দলের খেলোয়াড়রা জয়ের আনন্দ উদযাপনের জন্য ওই স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে একাদশের বাইরে থাকা এই ফাস্ট বোলার সেই সময় জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডের সাথে ছিলেন না। স্থানীয় পুলিশ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে ইংল্যান্ডের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের বিভিন্ন আচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নিয়ে ব্রিটিশ ক্রীড়া অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। সম্প্রতি দলের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্ব পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার পর খেলোয়াড়দের আচরণ বিধির ওপর বাড়তি নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের সময় দলের খেলোয়াড়দের নির্ধারিত সময়সীমা বা মধ্যরাতের নিয়ম ভাঙার দায়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমান তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্বের কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট করেছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিকরা।

আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট মাঠে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ড দল পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে এবং এই ম্যাচের প্রস্তুতিতে নতুন এই ঘটনা বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে চমৎকার জয় তুলে নিয়ে স্বাগতিকরা ইতোমধ্যে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে মাঠের বাইরের শৃঙ্খলাজনিত এই বিতর্ক এবং তদন্তের মুখোমুখি হওয়া দলের সার্বিক প্রস্তুতি ও মানসিক ফোকাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত ব্রাইডন কার্সকে দলের বাইরেই কাটাতে হবে। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি ইংল্যান্ড দলের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং সামনের দিনগুলোতে এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি হতে পারে।

এই ধরনের শৃঙ্খলাজনিত ঘটনাগুলো কেবল খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেই প্রভাব ফেলে না, বরং সামগ্রিকভাবে জাতীয় দলের সুনাম ও ব্যবস্থাপনার ওপরও গভীর ছাপ ফেলে। ক্রিকেট বোর্ড এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে খেলোয়াড়দের আচরণগত মানদণ্ড উন্নত করার জন্য বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লর্ডসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের আগে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে ক্রীড়া বোদ্ধারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য প্রকাশ করছেন। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে এবং ব্রাইডন কার্স ভবিষ্যতে জাতীয় দলে পুনরায় সুযোগ পাবেন কি না, তা নির্ভর করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর।

banner
Link copied!