যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আগ্রাসনে কোনো রাষ্ট্র অংশ নিলে তাদেরকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান। শনিবার ইরানের শীর্ষ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এই সতর্কবার্তা দেন।
আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বিশ্ববাসীর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অংশ না হওয়ার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্র আগামী সোমবার নতুন দফার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশের পর এই প্রতিক্রিয়া এল। তেহরানের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলার চক্রান্ত।
ইরানি কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো দেশ যদি অর্থনৈতিকrestrictions বা নিষেধাজ্ঞা আরোপে সহযোগিতা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জোরালো বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে অঞ্চল থেকে কোনো তেল রপ্তানি সুগম থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের বিকল্প রুটগুলোকে ঘিরে তেহরান তাদের নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান আরও কঠোর করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
যা এখনও স্পষ্ট নয় তা হলো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রগুলো মার্কিন এই নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপে পুরোপুরি সমর্থন জানাবে কি না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর আগে জানিয়েছেন যে দেশ বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন কোনো পথ খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
