ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির যে জোয়ার বইছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক কোনো বার্তা বয়ে আনছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। আল জাজিরার একটি সাম্প্রতিক কলামে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও মার্কিন নীতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ইরান সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে হোয়াইট হাউসের ভূমিকা নিয়ে ঘরের মাঠে জনপ্রিয়তা হ্রাস পেলেও, ল্যাটিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালে এই অঞ্চলে বেশ কয়েকজন ডানপন্থী নেতার ক্ষমতাগ্রহণ ঘটেছে, যা ওয়াশিংটনের পুরনো আধিপত্যবাদী নীতিকেই নতুন রূপ দিচ্ছে।
কলম্বিয়ায় সম্প্রতি ডানপন্থী ব্যবসায়ী ও সাবেক আইনজীবী আবেলাদো দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। মানবাধিকার কর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের নেতৃত্বের উত্থান অতীতেও এই অঞ্চলে প্রচুর রক্তপাত ও সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রকল্প এবং সামাজিক বৈষম্যের আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
একইভাবে আর্জেন্টিনায় জাভিয়ের মাইলির অর্থনৈতিক নীতিমালার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হয়েছে এবং দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হন্ডুরাস ও চিলির মতো দেশগুলোতেও ডানপন্থী ও কট্টর নিরাপত্তা নীতি গ্রহণকারী নেতাদের জয়লাভের পেছনে মার্কিন প্রভাবের কথা জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসী বিরোধিতা এবং নিরাপত্তা সংকটের জিগির তুলে ল্যাটিন আমেরিকার সাধারণ মানুষকে প্রকৃত অধিকার ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দূরে সরিয়ে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে। কর্পোরেট পুঁজিবাদ এবং ধনীক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার এই রাজনীতি অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে ওয়াশিংটনের এই নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং সামরিকীকরণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা কতখানি অর্জিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। পশ্চিমের সভ্যতার সুরক্ষার আড়ালে চলা এই ভূরাজনৈতিক কৌশল শেষ পর্যন্ত ল্যাটিন আমেরিকার সাধারণ জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা সময়ই বলে দেবে।
