চীনের হংকং অঞ্চলে ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ারের রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা আয়োজনের দায়ে দুই প্রবীণ অধিকারকর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে স্থানীয় হাইকোর্ট। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে উনসত্তর বছর বয়সী সাবেক আইনপ্রণেতা এবং একচল্লিশ বছর বয়সী এক আইনজীবী রয়েছেন। বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হংকং এলায়েন্স ইন সাপোর্ট অব প্যাট্রিওটিক ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টস অব চীন নামক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। এই সংগঠনটি দীর্ঘ তিন দশক ধরে প্রতি বছর জুনের চার তারিখে ভিক্টোরিয়া পার্কে শান্তিপূর্ণভাবে তিয়ানআনমেন হত্যাকাণ্ডের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও সমাবেশের আয়োজন করে আসছিল। চীনের তৎকালীন দমনপীড়নের প্রতিবাদে এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে গঠিত এই সংগঠনটি হংকংয়ের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিল। হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই বার্ষিক স্মরণসভাটি পরবর্তীতে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থানের মুখে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সংগঠনের রাজনৈতিক স্লোগান ও প্রচারণার মাধ্যমে চীনের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বরাবরই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শান্তিপূর্ণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করে এসেছেন। মামলার অপর এক আসামি পূর্বে নিজের দোষ স্বীকার করলেও প্রধান দুই অভিযুক্ত আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান। এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়া কর্মীদের মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে।
হংকংয়ের রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে এই রায়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে চীনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় হংকংয়ের নাগরিকদের জন্য যে বিশেষ স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের আইনি পদক্ষেপ হংকংয়ের অবশিষ্ট রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানছে। সাজা ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
