বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্রিটিশ উপকূলে ডুবে ফিলিস্তিনি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

ব্রিটিশ উপকূলে ডুবে ফিলিস্তিনি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলে সাসেক্স অঞ্চলে সাগরে ডুবে এক ফিলিস্তিনি-ব্রিটিশ পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার লন্ডনে অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে আল জাজিরা ও সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পশ্চিম সাসেক্সের শোরহাম-বাই-সি এলাকার শোরহাম ফোর্টের কাছে মঙ্গলবার সাঁতার কাটতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হোসাম আল-খাওয়াস নামের এক ফিলিস্তিনি শরণার্থী বাবা, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং এক কিশোরী। সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া পরিবারের আরেক অল্পবয়সী মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সাগরে মানুষের ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ, প্যারামেডিক, কোস্টগার্ড এবং লাইফবোট উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম অ্যান্ড কোস্টগার্ড এজেন্সি এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে চারজনকে পানি থেকে তুলে আনতে সক্ষম হয়। তবে নিবিড় চিকিৎসা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এই ঘটনাকে একটি "ভয়াবহ পারিবারিক ট্র্যাজেডি" হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্য দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকেই তুলে ধরে।

নিহত হোসাম আল-খাওয়াস মূলত দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের কাছাকাছি অবস্থিত রাশিদিয়েহ শিবিরের একজন ফিলিস্তিনি শরণার্থী ছিলেন। কয়েক দশক পুরনো এই শিবিরে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির বসবাস। সেখান থেকে যুক্তরাজ্যে থিতু হওয়া এই পরিবারের এমন মর্মান্তিক পরিণতি প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলাকালে জীবিত উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে নিবিড় চিকিৎসায় রাখা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে শোরহাম-বাই-সি-এর মতো জায়গাগুলোতে সাঁতারুদের নিরাপত্তা বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইংলিশ চ্যানেলের পানির অপ্রত্যাশিত স্রোত এবং জোয়ার-ভাটার আকস্মিক পরিবর্তন প্রায়শই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সমুদ্রের তলদেশের অদৃশ্য স্রোত এবং শীতল পানি যেকোনো সময় অভিজ্ঞ সাঁতারুদের জন্যও হুমকিস্বরূপ হতে পারে বলে কোস্টগার্ড নিয়মিত সতর্ক করে থাকে।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অংশ হিসেবে নিহত নারী ও কিশোরীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফিলিস্তিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে তারা বেঁচে যাওয়া স্বজনদের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।

banner
Link copied!