যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে গোপনীয়তার মামলা হেরে প্রিন্স হ্যারি এবং অন্য ছয়জন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্বকে অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডকে প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে নয় মিলিয়ন পাউন্ড আইনি খরচ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স জানিয়েছে। ডেইলি মেইলের এই প্রকাশকের বিরুদ্ধে দায়ের করা বেআইনি তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক এই ব্যয়ভার বহনের নির্দেশ দেন। আগামী আঠারো আগস্টের মধ্যে এই প্রাথমিক অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং পরবর্তীতে মামলার মোট খরচ প্রায় চৌত্রিশ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
মামলার আবেদনকারীদের মধ্যে প্রিন্স হ্যারি ছাড়াও সঙ্গীতশিল্পী স্যার এলটন জন, লিজ হার্লে, স্যাডি ফ্রোস্ট, স্যার সাইমন হিউজ, ডেভিড ফার্নিশ এবং ব্যারোনেস ডোরিন লরেন্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গত জুলাই মাসের সাত তারিখে বিচারক মিস্টার জাস্টিন নিকলিন এই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিলেন এবং আবেদনকারীরা অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে রায়ে উল্লেখ করেছিলেন। বিচারকের মতে, মামলার কার্যক্রমে কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল যা পরবর্তীতে কোনো উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই বজায় রাখা হয়, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক ছিল।
আদালতের রায়ে জানানো হয়েছে যে দৈনিক পত্রিকাটির পক্ষ থেকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রায় চৌত্রিশ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যদিও বিচারক এই অঙ্কটিকে অতিরিক্ত বলে অভিহিত করেছেন, তবুও প্রকাশকের খরচের ওপর কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে প্রিন্স হ্যারি এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের জন্য এই আইনি লড়াইয়ের আর্থিক বোঝা আরও অনেক বেশি ভারী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী অক্টোবরের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত তাদের কাছে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
মামলার রায়ের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রকাশকপক্ষ এটিকে তাদের সাংবাদিক, সম্পাদক ও কর্মীদের সুনামের ওপর আঘাত হানার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি বড় বিজয় বলে অভিহিত করেছে। এর আগে মামলার শুনানির সময় প্রিন্স হ্যারি সহ উভয় পক্ষের বহু বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন। তবে এই রায়ের পর আবেদনকারীদের তরফ থেকে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে এবং তারা পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছেন।
আইনি লড়াইয়ের এই রায় এমন এক সময়ে এল যখন প্রিন্স হ্যারি ও তার পরিবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার এবং তাদের সন্তানদের স্থানীয় বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। মামলা পরিচালনাকারী এই সেলিব্রিটি দলের কাছে কিছু আইনি বীমা কভারেজ থাকলেও তা সম্পূর্ণ খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে আগামী দিনে তাদের পকেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে কোনো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করার পর তা প্রত্যাহার না করা অত্যন্ত অবিবেচকের মতো কাজ এবং এর একটি আইনি মূল্য পরিশোধ করতে হয়।
