ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শোচনীয় হারের মুখে রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল, বিবিসি নিউজ ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে শুক্রবার এই চিত্র সামনে এসেছে। লিডসের হেডিংলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান প্রথম টেস্ট ম্যাচের তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা ইংলিশ পেস আক্রমণ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়েছেন। ম্যাচের এই পর্যায়ে সফরকারী দলটির পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে জানিয়েছে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। নিয়মিত অধিনায়ক বাবর আজমের ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সালমান আলী আগা, যিনি দলের ব্যাটিং ধস রোধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের চারশো নয় রানের জবাবে পাকিস্তান মাত্র একান্ন ওভারে একাত্তর রানে অলআউট হয়ে ফলোঅন এড়াতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চরম চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। দলের শীর্ষ সারির ব্যাটাররা দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে স্কোরবোর্ডে প্রয়োজনীয় রান যোগ করার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসে। জোফ্রা আর্চার ও জোশ টাংয়ের ধারালো বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে এবং দলীয় রান একাত্তর থেকে ছিয়াত্তর হতেই ছয়টি উইকেট হারিয়ে দল গভীর সংকটে পড়ে।
ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বোলাররা পিচের সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন। ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন ও জোশ টাং প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ে নেমে হ্যারি ব্রুক ও জর্ডান কক্সের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে ইংল্যান্ড চারশো নয় রানের পাহাড়সমান সংগ্রহ দাঁড় করায়। পাকিস্তানের পক্ষে লেগ স্পিনার আলী ওসমান পাঁচ উইকেট শিকার করলেও স্বাগতিকদের রান আটকানো সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ইংল্যান্ডের বোলারদের শৃঙ্খলিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটাররা বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি। দলের পক্ষে ওপেনাররা শুরুতেই সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর মধ্যসারির ব্যাটাররাও চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন। ইংলিশ পেসারদের সুইং এবং বাউন্স সামলাতে গিয়ে একে একে ব্যাটাররা উইকেট বিলিয়ে আসেন। এর ফলে পাকিস্তান দল বড় ব্যবধানে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা এড়াতে ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং মাঠের দর্শকরাও ইংলিশ দলের আধিপত্য প্রত্যক্ষ করছেন।
চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে ইংল্যান্ডের নিখুঁত দলীয় পারফরম্যান্স এবং ঘরের মাঠে কন্ডিশনের সঠিক ব্যবহারের সুবাদে তারা ম্যাচের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। খেলা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সফরকারী দলটির জন্য এই পরাজয় সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
