ফিফার কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের তহবিল তছরুপ এবং স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগে পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতির ফুটবল ফেডারেশন এক বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে বলে আল জাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সরকারি অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও তহবিল অপব্যবহারের এই অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তক সংস্থা ফিফা এবং ক্যাফ বা আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন যৌথভাবে জিবুতি ফেডারেশনকে প্রতি বছর দশ লক্ষ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক এক সরকারি পরিদর্শকের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সৌদি আরবের অর্থায়নে নির্মিত নতুন সদর দপ্তরের চুক্তি প্রদানে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। এই ঘটনার পর দেশটির ফুটবল অঙ্গনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় একটি ক্লাবের ম্যানেজার চলতি লিগ বয়কটের হুংকার দিয়েছেন।
ফেডারেশনের এই কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট হয়ে গত বারোই আগস্ট নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মেদ এলমি ফারাহ নামের এক কর্মকর্তা। তিনি ফেডারেশনের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘকাল ধরে জিবুতি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানের দায়িত্বে থাকা সোলাইমান হাসান ওয়াবেরী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে ফিফা তাদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি।
ফিফা কাউন্সিলের সদস্য এবং ক্যাফের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওয়াবেরী স্বীকার করেছেন যে কিছু নির্দিষ্ট কার্যক্রমে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানে সামান্য ঘাটতি ছিল। তবে জিবুতিতে উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে এমনটি ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং বর্তমানে প্রক্রিয়াগুলো অনেক উন্নত করা হয়েছে বলে জানান। ফিফার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফিফার বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে জিবুতির অবস্থান একশো ছিয়ানব্বইতম স্থানে রয়েছে এবং দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণা সূচকেও দেশটির অবস্থান বেশ পেছনের দিকে রয়েছে। সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও ক্লাব কর্তারা এখন অবিলম্বে ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
