ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ছয় জন নিহত এবং ছাব্বিশ জন আহত হয়েছেন বলে রয়টার্স, এপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শনিবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটে। কিয়েভের দারনিৎসকি জেলায় একটি গুদামে ভয়াবহ আগুন লেগে একজন নিহত হন এবং খেরসন অঞ্চলে আরও তিন জন প্রাণ হারান। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এসব হামলায় বহু আবাসিক ভবন ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগের দিন ইউক্রেনের ক্রভি রিহ শহরে একটি ব্যস্ত বিপণন কেন্দ্রে জোড়া ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে একটি কাপুরুষোচিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। ডোনেৎস্ক ও সুমি অঞ্চলেও রুশ হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নররা নিশ্চিত করেছেন। খারকিভ ও ওডেসা অঞ্চলেও সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়া দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
দেশজুড়ে চলা এই তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে দক্ষিণ রাশিয়ায় একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত এবং তাদের বাবা-মা আহত হয়েছেন বলে রুশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। বেলিগরোদ ও অন্যান্য সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোনের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাশিয়াও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের কথা নিশ্চিত করেছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ এনেছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ের প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে সাম্প্রতিক হামলায় তাদের একজন কর্মীও নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুশ বাহিনীর নিক্ষেপ করা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী এই সামরিক সংঘাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল ও সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপে এই রক্তক্ষয়ী সংকট সমাধান হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
