ইউরোপের দানিউব নদীর পানি তীব্র খরা ও চরম তাপপ্রবাহের কারণে রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অন্তত বিশটি নাৎসি যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে বলে বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। সার্বিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রাহাভো শহরের কাছে নদীর তলদেশ থেকে এই ঐতিহাসিক ও ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর মরিচা ধরা কাঠামো ও ভাঙা মাস্তুল দৃশ্যমান হয়েছে। ১৯৪৪ সালে সোভিয়ের বাহিনীর অগ্রাভিযান রোধ করতে এবং নিজেদের দখলে যাওয়া ঠেকাতে জার্মান বাহিনী এই যুদ্ধজাহাজগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দিয়েছিল।
চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে দানিউব নদীর পানি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা এই ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলোকে পুনরায় লোকালয়ের সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধকালীন এই জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু অংশে এখনো বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ রয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নদীর এই অংশটিকে নতুন করে বিপজ্জনক করে তুলেছে। সার্বিয়া সরকার এই বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ অপসারণের জন্য প্রায় তিন কোটি ইউরো ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, তবে কাজটি অত্যন্ত জটিল হওয়ায় অগ্রগতি বেশ ধীরগতির রয়েছে।
নদীর পানি কমে যাওয়ার ফলে দানিউব দিয়ে চলাচলকারী প্রমোদতরি ও ক্রুজ অপারেটরদের যাত্রাপথেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে। অনেক জায়গায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পর্যটকদের বিকল্প মাধ্যমে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পর্যটক ও ইতিহাসবিদরা মনে করছেন যে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো কেবল অতীতের ধ্বংসযজ্ঞের কথাই মনে করিয়ে দেয় না, বরং বর্তমান জলবায়ু সংকটের পরিণতি সম্পর্কেও এক সতর্কবার্তা প্রদান করে।
এদিকে নদীর পানি কমে যাওয়ায় কেবল যুদ্ধজাহাজই নয়, বরং অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনও ভেসে উঠেছে বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে একটি জার্মান সামরিক মোটরসাইকেল এবং স্লোভাকিয়ায় একটি বিশালাকার ব্রিটিশ বোমা উদ্ধার করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এছাড়া বুলগেরিয়ার গিগেন অঞ্চলে প্রাচীন কন্সট্যান্টাইন সেতুর অবশিষ্টাংশ এবং রাইয়াহোভো গ্রামের কাছে হাজার হাজার বছর আগের পশমযুক্ত ম্যামথের হাড় পাওয়া গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপ মহাদেশ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বারবার খরা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যা দানিউব নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌচলাচল ব্যাহত করছে এবং পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে।
