অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সাইরো-এর গবেষকরা বিশ্বের প্রথম কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন যা প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে কাজ করে, বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। মার্চ মাসে উন্মোচিত এই নতুন ডিভাইসে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে প্রচলিত ব্যাটারির মতো ধীরগতির পরিবর্তে এটি আকারে বড় হলে আরও দ্রুত চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ঐতিহ্যবাহী রাসায়নিক বিক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে এই প্রযুক্তি পারমাণবিক ও উপ-পারমাণবিক স্তরের সুক্ষ্ম বিষয়গুলো কাজে লাগায়।
গবেষণা দলের প্রধান জেমস কোয়াচ এবং তার সহযোগীরা আলোক মাইক্রোকেভিটি নামক একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সাফল্য অর্জন করেছেন। দুটি সূক্ষ্ম আয়নার মাঝে জৈব রঞ্জক অণু রেখে লেজার রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে আলো এবং অণুর মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা হয়, যা সিস্টেমের শক্তি শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই পদ্ধতিটিকে সুপারঅ্যাবজর্পশন বা অতি-শোষণ বলা হয়, যা অণুগুলোর এককভাবে কাজ করার পরিবর্তে একত্রে কাজ করার সুযোগ করে দেয়।
প্রোটোটাইপটি বর্তমানে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে কাজ করে এবং অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে। তা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীদের এই দলটি সম্প্রতি এই প্রোটোটাইপ থেকে বৈদ্যুতিক কারেন্ট নিষ্কাশনে সফল হয়েছেন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করতে পারে। তাত্ত্বিক সুবিধার কথা বলা হলেও এর বাস্তব ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব জেনোভার পদার্থবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক দারিও ফেররারো উল্লেখ করেছেন যে পরিবেশগত মিথস্ক্রিয়া কোয়ান্টাম প্রভাবকে দ্রুত দুর্বল করে দিতে পারে। অন্যদিকে কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ মাউরো প্যাটারনস্ট্রো মনে করেন যে কোয়ান্টাম চার্জিংয়ের সুবিধা ধরে রেখে ডিভাইস থেকে কার্যকরভাবে শক্তি বের করে আনা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও গবেষকরা এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে নতুন হাইব্রিড কাঠামো তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
