যুক্তরাষ্ট্র সোমবার ইরানি অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ওয়াশিংটন ডিডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন পদক্ষেপে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও শিপিং খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো তেহরানের বৈশ্বিক রাজস্ব আয় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া এবং যারা তেহরানের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে তাদের আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
এর জবাবে ইরানের অর্থনীতিমন্ত্রী আলী মদানিজাদা জানিয়েছেন যে তার দেশ এই অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং মার্কিন এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকারের কাছে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে চীন ও রাশিয়া মার্কিন এই একতরফা পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অন্যান্য দেশগুলোও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
এদিকে বেইজিং থেকে জানানো হয়েছে যে তারা যেকোনো ধরনের একতরফা এবং বেআইনি নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে। চিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়াং বলেছেন যে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় এবং চীন সবসময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন যে এই নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হতে পারে কারণ তেহরানের তেল রপ্তানির সিংহভাগ চীন কিনে থাকে যারা অতীতেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আমলে নেয়নি। তা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের এই নতুন পদক্ষেপে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
