মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ষাটটি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে বলে আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের তেল উৎপাদন, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সাইবার কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্য করেই এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন কর্মসূচিকে তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির সংযোগকারী সমস্ত আর্থিক ও বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করে দেওয়া। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল এবং শিপিং খাতকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে একে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অন্যতম বৃহৎ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তেহরান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইরানের সরকারি ও অর্থনৈতিক মহলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা অতীতেও কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। তাদের মতে, আমেরিকার এই ধরনের কৌশলগত চাপ মোকাবিলা করার জন্য দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যেই নতুন করে আরোপ করা এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এবং আঞ্চলিক মুদ্রার বাজারে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের স্থানীয় মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ার ঘটনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ এখনো ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের ওপর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেও ওয়াশিংটনের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে।
এই নতুন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার ও মিত্র দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে বলে সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে যে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে হঠাৎ করে অস্থিতিশীল না করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
