বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি ও চারশ নিখোঁজ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি ও চারশ নিখোঁজ

নেপালের সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলাগুলোতে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে সতেরো জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং শতাধিক ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় চারশ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার নিশ্চিত করেছে। তিব্বত মালভূমিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও বরফ গলার কারণে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিঙ জেলার একাধিক গ্রাম ও জনপদ জলের তোড়ে ভেসে গেছে। আকস্মিক এই প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় চীন ও নেপালকে সংযোগকারী ঐতিহাসিক মিতেরী সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে কোনো পূর্ব সঙ্কেত ছাড়াই ভোতেকোশি নদীর পানি হঠাৎ করে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। প্রবল জলস্রোত রাসুয়া জেলার তিমুরে ও সায়াপ্রু বেসি এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ও স্থানীয় বাজার নিমেষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে এবং পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বহু ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যা-বিধ্বস্ত এলাকা থেকে তিনশ চুরাশিয়ান জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে একশ পাঁচ জন ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর্যটকরাও রয়েছেন। এছাড়া রাসুয়া জেলায় দায়িত্ব পালনরত নেপাল পুলিশের ছাব্বিশ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সাতজন সদস্যের সাথেও কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ এবং নেপাল পুলিশ যৌথভাবে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। দুর্গত এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য চৌদ্দটি হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে। তবে নদীর পানির অতিরিক্ত উচ্চতা ও তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত অন্তত ছয়টি বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন বন্যার তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় চারশো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী নিচু অঞ্চলের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে আগামী কয়েক দিন পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা উদ্ধার অভিযানকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও নেপালের এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং জরুরি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

banner
Link copied!