আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগামী বছরের মার্চ মাসে মরক্কোর রাবাত শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ব ফুটবল সংস্থার পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তীব্র সমালোচনার মুখে নিজের পদ ধরে রাখতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন। আগামী আঠারো নভেম্বর পর্যন্ত সব সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে দুইশত এগারোটি সদস্য দেশের ভোটে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমান প্রধানের সাম্প্রতিক কিছু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চলতি বছরের শেষের দিকে এবং বিগত মাসগুলোতে বিশ্ব ফুটবলের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে ঐতিহ্যবাহী সমর্থনগুলোতে কিছুটা ফাটল ধরেছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বাইরের বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি তার কিছু পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। তবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু আঞ্চলিক ফুটবল ফেডারেশন এখনো তার পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে, যা তাকে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের লড়াইয়ে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কড়া অবস্থান নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই কতটা জমজমাট হবে, তা নির্ভর করছে আগামী মাসগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।
আগামী আঠারো মার্চ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কংগ্রেসে নির্ধারিত হবে বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী নেতৃত্ব কার হাতে যাবে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিভিন্ন আঞ্চলিক কনফেডারেশনের প্রধানদের নাম আলোচিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি। ফুটবল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই সংকট ও নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর এখন ফিফার বার্ষিক সাধারণ সভার দিকে নিবন্ধ রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যকার কূটনৈতিক লবিং এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের অবস্থান আগামী দিনে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
