বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে পঁচানব্বই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

নেপালে পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে পঁচানব্বই

নেপালে ভূমিকম্প পরবর্তী তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পঁচানব্বই জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বুধবার ভোরে রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া জেলায় আকস্মিক এ বন্যা আঘাত হানে, যার ফলে বহু গ্রামীণ জনপদ জলের তোড়ে ভেসে গেছে। রয়টার্স ও বিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক তথ্যে পাহাড়ি এই অঞ্চলে তিন শতাধিক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন যে স্থানীয় সময় সকালে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর তুষারধস শুরু হয় এবং এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এই বিপুল প্রাণহানি ঘটে। তবে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে দুর্যোগের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র যাচাই করে দেখার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেপালের সীমান্তবর্তী চীনা অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে এবং দুই দেশের প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে।

উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার জন্য নেপালি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী পনেরোটি হেলিকপ্টার এবং আধুনিক ড্রোন মোতায়েন করেছে। উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত একটি এলাকা থেকে বেশ কিছু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ওই অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ ও পর্যটনে যুক্ত থাকায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

banner
Link copied!