মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আর্থিক দুর্নীতির খেসারত

ম্যান সিটির নিয়ম ভাঙায় প্রতিপক্ষদের ৮৪৪ মিলিয়ন ক্ষতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

ম্যান সিটির নিয়ম ভাঙায় প্রতিপক্ষদের ৮৪৪ মিলিয়ন ক্ষতি

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কারণে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর প্রায় ৮৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে বলে এক বিশেষ আর্থিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে শীর্ষ লিগে খেলা ৩৫টি দল এই পরিস্থিতির কারণে নানাভাবে আর্থিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সব ধরনের অন্যায় আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করেছে।

আর্থিক এই হিসাব প্রিমিয়ার লিগের সমীকরণ বদলে দেওয়ার চিত্র তুলে ধরে।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ওই সময়ে স্পনসরশিপ বাবদ প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ড এবং খরচ বাবদ আরও ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড অতিরঞ্জিত দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক সক্ষমতার ওপর ভর করে সংশ্লিষ্ট সময়কালে ক্লাবটি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, একটি এফএ কাপ এবং তিনটি লিগ কাপ জয় করে। কিন্তু এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে লিগের অন্য দলগুলোর ওপর, যারা ন্যায্য স্থান নির্ধারণী অর্থ ও শীর্ষ ইউরোপীয় আসরে খেলার আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

পর্যালোচনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থের মধ্যে লিগ টেবিলের অবস্থান বাবদ প্রাপ্য ছিল ১৮৮ দশমিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড। রেলিগেশন বা দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন দলের ক্ষতি হয়েছে ৩৪৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি অংশ নিতে না পারায় ক্লাবগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি ২১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ড এবং ঘরোয়া কাপ ও ইউরোপা লিগ বাবদ ঘাটতি হয়েছে আরও ৮৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড।

একই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আয় করেছে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন পাউন্ড।

এই বিপুল আয়ের মধ্যে কেবল প্রিমিয়ার লিগের প্রাইজমানি ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকেই এসেছে ৮১২ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে এসেছে ৩৬৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড এবং এফএ কাপ ও লিগ কাপ থেকে এসেছে আরও ১২ লাখ পাউন্ড। ২০০৮ সালে নতুন মালিকানা আসার আগে দলটি একবারের বেশি শীর্ষ চারে জায়গা করতে পারেনি, তবে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পর থেকে দলটি কখনোই শীর্ষ চারের বাইরে যায়নি।

উম্মাহ কণ্ঠ ডট কম-এর অনুসন্ধানী পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই আর্থিক ব্যবধান কোনো দল ক্ষতিপূরণ পাবে কি না তা নিশ্চিত করে না, বরং অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি আনুমানিক চিত্র তুলে ধরে। কোনো একক দল নিশ্চিতভাবেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ পেত কিংবা অবনমন এড়াতে পারত এমন দাবি এই পরিসংখ্যানে করা হয়নি। ম্যানচেস্টার সিটির আইনি আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়া আদালত ও প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে এই বিতর্কের আইনি পরিণতি।

banner
Link copied!