বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালীতে হামলা

হরমুজে নতুন কৌশলে ইরানি হামলা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

হরমুজে নতুন কৌশলে ইরানি হামলা: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালীতে দুটি জলযান আক্রান্ত হওয়ার পর বুধবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্সকে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা জাহাজ লক্ষ্যবস্তু বানাতে নতুন কৌশল প্রয়োগ করছেন। তেহরান মূলত তেলের উচ্চমূল্য বজায় রাখতে এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চাইছে বলে খবরে প্রকাশ।

সৌদি আরব সময় সকাল সাড়ে নয়টায় ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়ায়। মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২৮ সেন্ট বা ০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়। দিনের শুরুর বাণিজ্যে দুটি চুক্তির দামই ১ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

ইরানি কর্মকর্তারা এই নতুন কৌশলের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে এক কর্মকর্তা জানান যে তেহরান প্রায় ১০ দিন আগে থেকে এমন জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ভিন্ন আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার শুরু করেছে, যেগুলো তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে বলে তারা মনে করে। এর ফলেই এই ধরনের জাহাজে হামলার হার বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালীর ভেতর অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ও একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা গত মঙ্গলবার এই ঘটনার কথা জানিয়েছে।

ফিলিপ নোভা প্রতিষ্ঠানের বাজার গবেষণার প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভা এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা ইরানি কর্মকর্তারা যেভাবে প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন, তাতে শান্তি আলোচনার পেছনের আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

সচদেভা বলেন, নিজেদের ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তেহরান পুরোপুরি সচেতন। এই ভূরাজনৈতিক দরকষাকষির সুবিধা নিতে তারা পিছপা হবে না।

এদিকে ধাহরান শহরে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে যে এই হামলার কারণে সেখানে সীমিত আকারের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।

ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের প্রতিশোধ হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে এই গোষ্ঠী। রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারবার হামলা হয়েছে, যার মধ্যে গত শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বাজারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যকার সংঘাতের জেরে তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকটই মূলত তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কিকুকাওয়া আরও জানান, রুশ ডিজেল রপ্তানি বাড়লে বাজারের টানটান ভাব কিছুটা কমবে, যা তেলের দামে খুব বেশি আকস্মিক পরিবর্তন সীমিত রাখবে। তিনি ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করার পূর্বাভাস দিয়েছেন।

banner
Link copied!