চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সব সীমান্তে সেনা সদস্য বাড়াচ্ছে ইসরায়েল। দখলকৃত পশ্চিম তীর পরিদর্শনের সময় বুধবার এই ঘোষণা দেন দেশটির সামরিক প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির।
তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনী সময়ের কারণে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের বক্তব্য তুলে ধরেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সব ফ্রন্টে সতর্কবার্তা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি এবং বর্তমান সময়ের স্পর্শকাতরতার দিকটি তিনি তুলে ধরেছেন।
প্রতিপক্ষের যেকোনো ধরনের আকস্মিক হামলার চেষ্টা মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। সফরের সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সামরিক প্রধান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি নাগরিকদের ক্ষতি করার যেকোনো প্রচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।
হামাসের পক্ষ থেকে চালানো ৭ অক্টোবরের হামলার তিন বছর পূর্তি পালনের ঠিক পরপরই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সে সময় ইসলামপন্থী যোদ্ধারা পিকআপ ভ্যান ও প্যারাগ্লাইডিং করে ইসরায়েলে প্রবেশ করে এবং একটি সঙ্গীত উৎসবসহ বিভিন্ন স্থানে গুলি চালায়।
এদিকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল এক বছর আগে। বর্তমানে এই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অর্ধেকের বেশি এলাকা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে সামরিক হামলা অব্যাহত আছে।
লেবানন সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননে সহিংসতা কিছুটা কমেছে। ওই চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণের কথা থাকলেও সেই চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া থমকে আছে।
বিস্তৃত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরানের দিক থেকেও হামলার মুখোমুখি হয়েছে ইসরায়েল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটেছিল।
