নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তা পুড়িয়ে দিয়েছে ইসলামিক স্টেট বা আইএসপন্থী সন্দেহভাজন যোদ্ধারা। এ ঘটনায় ১৫ সেনা এবং পাঁচজন যুদ্ধবিরোধী মিলিশিয়া সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
লেক চার্ড অঞ্চলের মাইরারির একটি গ্রামে অবস্থিত ওই সামরিক স্থাপনায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স বা আইএসডব্লিউএপির একটি বড় দল। হামলাকারীরা অস্ত্রশস্ত্র লুট করার পর পুরো চত্বরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নাইজেরিয়ান সামরিক কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসীরা ১৫ সেনা এবং তাঁদের সহায়তাকারী বেসামরিক যৌথ টাস্কফোর্সের পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে। ওই কর্মকর্তা এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নিজের নাম প্রকাশ করেননি।
উগ্রপন্থীরা ঘাঁটিটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়, যার ফলে বেঁচে যাওয়া সেনারা প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুনগুনো শহরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হন। এই সংঘর্ষের পর বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সহকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, নিখোঁজ সদস্যদের জঙ্গিরা অপহরণ করে থাকতে পারে। মাইরারির স্থানীয় বাসিন্দা গ্রেমা বুতারি জানান, যোদ্ধারা স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়।
এই হামলার ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ শুরু হয়, যা সেনাদের হটিয়ে দেয় এবং আক্রমণকারীরা ভোর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে সক্ষম হয়। বুতারি আরও জানান, হামলাকারীরা বহন করতে পারে এমন সব মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।
তারা অবশিষ্ট রসদের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আহমাদ শরিফ জানান, জঙ্গিরা সম্ভবত পার্শ্ববর্তী গুজামালা জেলার গুদুমবালির আস্তানা থেকে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
শরিফ ঘাঁটিটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বোকো হারাম এবং তাদের দলছুট শাখা আইএসডব্লিউএপির ১৭ বছর ধরে চলা উগ্রপন্থী বিদ্রোহের কেন্দ্রবিন্দু হলো বোর্নো রাজ্য।
এই সংঘাতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এক দশক আগের তুলনায় এই অঞ্চলের সহিংসতা কিছুটা কমে এলেও গত দুই বছর ধরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।
নাইজেরিয়া বর্তমানে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে হিংসাত্মক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট ১৯৯৭ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর থেকে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ মাত্রার সহিংসতার রেকর্ড হয়েছে।
গত সপ্তাহে পার্শ্ববর্তী কুকাওয়ায় একটি সামরিক চৌকিতে আইএসডব্লিউএপির যোদ্ধারা হামলা চালালে প্রায় দুই ডজন জঙ্গি ও সেনা নিহত হন। হামলাকারীরা অস্ত্র লুট করার পর যুদ্ধবিমানগুলো স্থল বাহিনীকে তাদের প্রতিহত করতে সহায়তা করে।
দীর্ঘস্থায়ী এই বিদ্রোহে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ তাঁদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
