রটারডাম তার অভিবাসন ইতিহাস এবং আধুনিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে গত মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের এই শহরটি তাদের পরিচয়মালায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বৈশিষ্ট্যের সংযোজন ঘটিয়েছে। শহরের বর্জ্য অপসারণকারী গাড়িবহরে কবিতা ছাপার এই প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৮ সালে একটি কবিতা উৎসবের উদ্যোক্তাদের হাত ধরে শহরের আবর্জনা বহনকারী গাড়িগুলোতে প্রথম কবিতার পঙ্ক্তি স্থান পায়। গত সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী একটি সংস্থা এই ব্যতিক্রমী প্রথাটিকে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।
সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও ভাষাবিষয়ক উপমেয়র জোন নানেলি জানান, ১৯৮৮ সাল থেকে আমাদের ময়লার গাড়িগুলোর হাত ধরে রটারডামের বুকে কবিতা ঘুরে বেড়াচ্ছে। নগরবাসীর অনেকেই সকালে সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে কিংবা রাস্তার মোড়ে গাড়ি অতিক্রম করার সময় কবিতার লাইনগুলো পড়ে থাকেন।
এই উদ্যোগের সমর্থকেরা মনে করেন এটি যেমন মন ভালো করে দেয়, তেমনি সংস্কৃতির পরিধিও প্রসারিত করে। নানেলি ব্যাখ্যা করেন যে মানুষ সাধারণত সংস্কৃতিকে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের জন্য নির্ধারিত বলে মনে করে, অথচ এই প্রথা সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে কবিতা পৌঁছে দিচ্ছে।
পল কেইজার ১৯৮৮ সালে এই কর্মসূচি চালুর পর থেকেই রটারডামের ময়লার গাড়ি চালিয়ে আসছেন। তাঁর মতে এই কবিতাগুলো শহরের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সংযোগ আরও গভীর করে তোলে এবং তাঁকে নিজের মতো করে পঙ্ক্তিমালা লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে।
কেইজার জানান যে তাঁরা মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব ইতিবাচক সাড়া পান। কোনো কোনো নগরবাসী স্বীকার করেন যে তাঁরা কবিতার কোনো বিশেষ লাইন হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। তাঁর বর্তমান গাড়িতে নেল্টজে মারিয়া মিনের লেখা অতীত এবং সময়ের বাঁধন সম্পর্কিত একটি পঙ্ক্তি খোদাই করা রয়েছে।
পয়েট্রি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ডায়ানা চিন-এ-ফ্যাট জানান যে এই প্রথাটি টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁর সংস্থা এবং রটারডাম পৌরসভা যৌথভাবে ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি আরও বলেন যে রটারডামের প্রতিটি মানুষ এই কবিতাগুলো চেনে ও পড়ে, যা এককথায় অনন্য।
কবি ও কথাসাহিত্যিক ডেরেক ওটে বলেন যে এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে রটারডাম কীভাবে নিজেদের একটি আধুনিক পরিচিতি গড়ে তুলছে। সম্প্রতি তাঁর নিজের লেখা একটি পঙ্ক্তিও শহরের ময়লার গাড়ির গায়ে যুক্ত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে পাথর দিয়ে শহর উঁচু করা যায় আর মানুষ এর গভীরতা দেয়।
ডাচ সেন্টার ফর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ চার শর বেশি ঐতিহ্য, শিল্পরীতি, আচার ও প্রথার একটি তালিকা সংরক্ষণ করে থাকে। বার্ষিক আমস্টারডাম প্রাইড উৎসব থেকে শুরু করে ভেড়ার পাল পরিচালনা পর্যন্ত নানা অনন্য বৈশিষ্ট্য এই তালিকায় নথিভুক্ত রয়েছে।
ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক তালিকাতেও নেদারল্যান্ডসের বেশ কয়েকটি ঐতিহ্য স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সেচ পদ্ধতি এবং উইন্ডমিল ও ওয়াটারমিল পরিচালনাকারী মিলারদের কারুশিল্প।
