সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুস্বাস্থ্যের জন্য রাতের খাবার খাওয়ার সঠিক সময় কখন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

সুস্বাস্থ্যের জন্য রাতের খাবার খাওয়ার সঠিক সময় কখন

মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি এবং খাবার গ্রহণের সময়ের ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। আমাদের জীবনে কেবল কী খাচ্ছি তা নয়, বরং কোন সময়ে খাচ্ছি তাও শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিবিজ্ঞান ও ক্রনোনুট্রিশন নামক নতুন একটি উদীয়মান বিজ্ঞানের শাখা জানাচ্ছে যে সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ স্থূলতা হ্রাস থেকে শুরু করে কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

স্পেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম বিপাক প্রক্রিয়াকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। সকালের দিকে মানুষ যেভাবে খাবার হজম করতে পারে, রাতের বেলা শরীরের জৈবিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন যে ঘুমানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ভারী খাবার গ্রহণ করলে শরীরে জৈবিক অমিল বা সার্কাডিয়ান মিসঅ্যালাইনমেন্ট তৈরি হয়, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা রাতের খাবার একটু জলদি গ্রহণ করেন, তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে এবং ইনসুলিন উৎপাদন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। এর বিপরীতে দেরিতে খাবার খেলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা হ্রাস পায় এবং টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন রাতের বেলা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সেই সময়ে খাওয়া খাবার সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত হতে বাধাগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমকে ধীর করে দেয়।

খাবার গ্রহণের সময় পরিবর্তনের ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ হরমোনের ওপরও গভীর প্রভাব পড়ে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। দেরিতে রাতের খাবার খেলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রক হরমোনের উৎপাদন হ্রাস পায়, যার ফলে পরের দিন অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভূত হয় এবং শরীরের চর্বি জমার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে, সকালের দিক ভারী নাস্তা এবং রাতের বেলা হালকা খাবার গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে রাতের খাবার যত দ্রুত সম্ভব রাতের প্রথম ভাগে সেরে ফেলা উচিত এবং ঘুমানোর অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করা দরকার। বিশেষ করে যারা নাইট শিফটে কাজ করেন কিংবা বিভিন্ন পেশাগত কারণে অনিয়মিত জীবনযাপন করেন, তাদের জন্যও খাদ্যাভ্যাসের সঠিক সময় নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। জীবনযাত্রার এই ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে এবং নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষা দিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

banner
Link copied!