যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সেনেট দলের প্রাথমিক নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের পর আরব বংশোদ্ভূত ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল সাঈদকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমন্বিত ইসলামভীতি ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে আল জাজিরার একটি বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই শুরু হওয়া এই ডিজিটাল প্রচারণায় তার একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে ধর্মীয় ও আদর্শিক হুমকি হিসেবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এই ধরনের অপচেষ্টার পেছনে মূলত লবিং গ্রুপ এবং কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক মহলের ইন্ধন রয়েছে।
নির্বাচনী জয়ের পর দেওয়া বক্তৃতায় আবদুল সাঈদ আল্লাহর ওপর ভরসা ও আশাবাদ ব্যক্ত করতে আরবি ভাষার একটি বহুল প্রচলিত অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছিলেন যে কেবল অর্থ বা বিশাল তহবিল দিয়েই আমেরিকার নির্বাচন নির্ধারণ করা যায় না, বরং জনগণের ইচ্ছাই শেষ কথা। কিন্তু কট্টর ডানপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট সেই স্বাভাবিক অভিব্যক্তিটিকে প্রসঙ্গ থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভীতিকর অর্থে উপস্থাপন করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এই ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হয় যে এটি দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থার ওপর একধরনের পরিকল্পিত আগ্রাসন।
ডানপন্থী প্রভাবশালী ধারাভাষ্যকার বেনি জনসন এবং এএলএক্স নামক অ্যাকাউন্টগুলো এই প্রচারণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এবং লাখ লাখ মানুষের কাছে সেই বিভ্রান্তিকর বার্তা পৌঁছে দেয়। তারা কৃত্রিমভাবে তৈরি এই ভীতি ছড়ানোর মাধ্যমে ভোটারদের মেরুকরণ করার চেষ্টা চালায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এ ছাড়াও লরা লুমার সহ কট্টরপন্থী অন্যান্য ব্যক্তিত্বরা আবদুল সাঈদের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং তার রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আসার আগেই ইসলামি শক্তির রাজনৈতিক উত্থান ঘটছে বলে অবাস্তব ও উসকানিমূলক দাবি প্রচার করা শুরু হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই ধরনের ঘটনা মার্কিন সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পক্ষপাতিত্ব ও ইসলামভীতিরই বহিঃপ্রকাশ। আবদুল সাঈদের এই নির্বাচনী সাফল্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক লবিং গ্রুপগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নাগরিক অধিকার কর্মীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের বিদ্বেষমূলক ও বর্ণবাদী প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এ ধরনের ডিজিটাল আক্রমণ সত্ত্বেও প্রার্থীর অনুসারী ও সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে তৎপর রয়েছেন।
